সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া আশির দশকের এক কঠিন পরিস্থিতিতে বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের হাল ধরেছিলেন। এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এই লড়াইয়ে তার আপসহীন অবস্থানের কারণেই তিনি দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে অভিহিত হয়েছিলেন।”
সাকি আরও বলেন, “বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে তার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। বিশেষ করে ‘ওয়ান ইলেভেন’-এর সময়ে তার সাহসী ও দৃঢ় ভূমিকা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
সদ্য সমাপ্ত আওয়ামী শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে সাকি বলেন, “আমরা দেখেছি কীভাবে ফ্যাসিবাদী কায়দায় তার ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং তাকে কারাবন্দি করা হয়েছে। যে অসুস্থতার কারণে আজ তার মৃত্যু হলো, সেই অসুস্থতার দায় সরাসরি সাবেক নির্যাতক শাসকগোষ্ঠীর ওপর বর্তায়।”
পুরানো স্মৃতি হাতড়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, “২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের আগে আমরা যখন এই হাসপাতালেই তার সঙ্গে দেখা করেছিলাম, তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে আমাদের বলেছিলেন— নির্বাচনে নয়, বরং আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের অবসান ঘটাতে হবে। সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের পেছনেও তার সেই লড়াইয়ের প্রেরণা কাজ করেছে।”
জোনায়েদ সাকি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসারত অবস্থায় দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসনের এই প্রয়াণে দেশের রাজনীতিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং একটি যুগের অবসান। গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে তিনি ছিলেন দৃঢ় ও আপসহীন এক নেত্রী। এই রাজনীতিকের চলে যাওয়ায় রাজনীতির ময়দান হারালো এক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর।
রিপোর্টারের নাম 

























