জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করায় অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অন্তত ছয়জন শীর্ষস্থানীয় নারীনেত্রী প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যাদের মধ্যে দুজন এরই মধ্যে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া একজন নেত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং অন্য প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। এনসিপি গত ১০ ডিসেম্বর ১২৫ জন প্রার্থীর যে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছিল, সমঝোতার ঘোষণার পর সেই তালিকা থেকে অনেক প্রভাবশালী নেত্রী নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। দলের এই আকস্মিক নীতি পরিবর্তনকে অনেকে ‘প্রবঞ্চনা’ হিসেবে অভিহিত করে দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।
দলের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রথম পদত্যাগ করেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। তিনি ঢাকা-৯ আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও সমঝোতার কারণে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার আইনি শর্ত হিসেবে তিনি মাত্র দুই দিনে ওই এলাকার প্রায় ৫ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে নজির সৃষ্টি করেন। একই পথে হেঁটে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা-১৭ আসনের ঘোষিত প্রার্থী ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া নওগাঁ-৫ আসনের মনিরা শারমিন এবং খাগড়াছড়ির মনজিলা ঝুমাও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। মনিরা শারমিন তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, এককভাবে ৩০০ আসনে নির্বাচনের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া তিনি মেনে নিতে পারছেন না।
এনসিপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভক্তি নিয়ে দলের ভেতর-বাইরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। দলের যুগ্ম সদস্যসচিব নুসরাত তাবাসসুম নিজেকে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ঘোষণা করেছেন এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন জোটের কঠোর সমালোচনা করেছেন। সামান্তা শারমিন জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে এই জোট গঠনকে তিনি নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করেন না, যার ফলে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে আপাতত তিনি দলে থেকে ‘ইনার পার্টি স্ট্রাগল’ বা অভ্যন্তরীণ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের শক্তির এভাবে বিভাজিত হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি মনে করেন, এনসিপি একটি নতুন দল হিসেবে তাদের আদর্শিক অবস্থান পরিষ্কার না করায় এমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























