রাজধানীর রামপুরা এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’ গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে রামপুরা টিভি সেন্টার সংলগ্ন রয়েল মিষ্টির দোকানের সামনে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসে। তারা পলাশকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা ঘটনাটি ঘটিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এলাকা ত্যাগ করে। গুলিতে পলাশের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
আহত ইয়াছিন খান পলাশ (৫০) পশ্চিম রামপুরার বাসিন্দা এবং তার বাবার নাম ইউনুস খান। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তার ভাই আলামিনের মাধ্যমে খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
ঢামেক সূত্র জানায়, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানা না গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, পূর্ব বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার কিংবা অপরাধ জগতের দ্বন্দ্ব—সবকিছুই তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’ রাজধানীর অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত। রামপুরা, হাতিরঝিল, বাড্ডা ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি আলোচিত। পুলিশের নথিতে তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের তালিকাভুক্ত আসামি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, অপরাধ জগতের বিভিন্ন দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অতীতেও তাকে ঘিরে একাধিক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। তবে সর্বশেষ হামলার পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
রিপোর্টারের নাম 

























