বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ চুরি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, যারা এই অর্থ চুরি করেছে, তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। পাচার হওয়া সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় জোরদার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশ-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এসব কথা বলেন।
ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ টাকা চুরি হয়ে গেছে। বর্তমানে পাঁচটি ইসলামিক ব্যাংককে ‘সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২৯শে ডিসেম্বর একটি বিশেষ স্কিমের মাধ্যমে তাদের পেমেন্টের ব্যবস্থা করে গেছে, যা এখনও চলমান।
আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে গভর্নর বলেন, সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে বড় কোনো সংকট নেই। সমস্যা কেবল ওই নির্দিষ্ট পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধার (অ্যাসেট রিকভারি) প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে একটি ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স’ নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি স্বীকার করেন যে বিশ্বজুড়ে এ ধরনের সম্পদ উদ্ধারের সাফল্যের হার ২ শতাংশের কম এবং এতে ৭ থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে।
তবে অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ১০টি বহুজাতিক এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে এবং বেশ কিছু দেশে ইতোমধ্যে সম্পদ স্থগিত (ফ্রিজ) করা হয়েছে। একটি যৌথ অনুসন্ধান দলের (জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম) মাধ্যমে কিছু করও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
অনুষ্ঠানে নিজের ব্যক্তিগত ঋণের বিষয়ে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন গভর্নর। তিনি বলেন, তার সংশ্লিষ্ট একটি গ্রিন ফ্যাক্টরির ঋণের সুদের হার ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯-১১ শতাংশ করায় এবং কোভিড পরিস্থিতির কারণে পেমেন্টে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। তবে সেটি কোনোভাবেই খেলাপি ঋণ ছিল না। প্রতিষ্ঠানটি কখনো বন্ধ হয়নি বা বেতন বকেয়া রাখেনি, বরং ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যাংকে পরিশোধ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























