ঢাকা ০৯:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সফল: জ্বালানিমন্ত্রীর আশাবাদ

বৈশ্বিক যুদ্ধ এবং সরবরাহ চেইনের টানাপোড়েন সত্ত্বেও বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি সৃষ্টি হয়নি বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধের প্রভাবে এমনকি উন্নত দেশগুলোও জ্বালানি সংকটে পড়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশ সেই পরিস্থিতি দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে এবং জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন যে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে পুনরুজ্জীবিত করা, স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মন্ত্রী জানান, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা অর্জিত হলেও সেখানে গ্যাস অনুসন্ধানে তেমন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একইভাবে, স্থলভাগে সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্রগুলো অনুসন্ধানেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অনুপস্থিত ছিল। অথচ, রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান সংস্থা বাপেক্সের দীর্ঘদিনের সাফল্যের ইতিহাস রয়েছে, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা কমাতে বাপেক্সকে সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে, বাপেক্সের জন্য আরও পাঁচটি রিগ সংগ্রহ করা হবে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানো হবে।

সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলো ইতিমধ্যে তাদের সমুদ্রসীমা থেকে গ্যাস উত্তোলন করে রপ্তানি করছে। তবে, গভীর সমুদ্রে কাজ করার মতো পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা বাপেক্সের না থাকায় আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোকে (আইওসি) বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং এক মাস পর দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হবে। এরপর আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্লক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

জ্বালানি আমদানির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতার কারণে কাতার ও সৌদি আরবের সঙ্গে করা কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজর’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে সরকারকে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের তেল কেনা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রজেক্ট ও আইডিয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সফল: জ্বালানিমন্ত্রীর আশাবাদ

আপডেট সময় : ০৮:২২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

বৈশ্বিক যুদ্ধ এবং সরবরাহ চেইনের টানাপোড়েন সত্ত্বেও বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি সৃষ্টি হয়নি বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধের প্রভাবে এমনকি উন্নত দেশগুলোও জ্বালানি সংকটে পড়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশ সেই পরিস্থিতি দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে এবং জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন যে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে পুনরুজ্জীবিত করা, স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মন্ত্রী জানান, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা অর্জিত হলেও সেখানে গ্যাস অনুসন্ধানে তেমন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একইভাবে, স্থলভাগে সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্রগুলো অনুসন্ধানেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অনুপস্থিত ছিল। অথচ, রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান সংস্থা বাপেক্সের দীর্ঘদিনের সাফল্যের ইতিহাস রয়েছে, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা কমাতে বাপেক্সকে সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে, বাপেক্সের জন্য আরও পাঁচটি রিগ সংগ্রহ করা হবে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানো হবে।

সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলো ইতিমধ্যে তাদের সমুদ্রসীমা থেকে গ্যাস উত্তোলন করে রপ্তানি করছে। তবে, গভীর সমুদ্রে কাজ করার মতো পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা বাপেক্সের না থাকায় আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোকে (আইওসি) বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং এক মাস পর দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হবে। এরপর আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্লক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

জ্বালানি আমদানির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতার কারণে কাতার ও সৌদি আরবের সঙ্গে করা কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজর’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে সরকারকে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের তেল কেনা হয়েছে।