ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

বাজেটকে ‘বিশাল ঘাটতি ও ঋণনির্ভর’ আখ্যা দিল জামায়াত

সরকারঘোষিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘বিশাল ঘাটতি ও ব্যাপক ঋণনির্ভর’ বলে মন্তব্য করেছে বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাজেট প্রতিক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব মন্তব্য করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট প্রস্তাব করেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষিত বাজেটে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। দেশকে স্বনির্ভর ও দুর্নীতিমুক্ত করার কোনো রূপরেখাও এই বাজেটে পরিলক্ষিত হয়নি। বিশেষ করে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে এই বাজেট বাস্তবায়নে ব্যাপক দুর্নীতি হবে এবং দলীয় কর্মীদের মাঝে দুর্নীতির টাকা ভাগ-বাটোয়ারার একটি আয়োজন হিসেবে পরিগণিত হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘোষিত বাজেটের প্রধান দুর্বলতা হলো এটি একটি বিশাল অঙ্কের ঘাটতি বাজেট। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে ঘাটতি বাজেট প্রথা হলেও এবারের বাজেটটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্কের ঘাটতি বাজেট। এটি ব্যাপকভাবে ঋণনির্ভর, যেখানে ব্যাংক ঋণ এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল জানান, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই বাজেটের অর্থসংস্থান করতে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, ফলে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। তবে এই বিশাল রাজস্ব আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় কর কাঠামো বা দুর্নীতিমুক্ত কর প্রশাসনের অভাব লক্ষ্য করা গেছে।

গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, অর্থমন্ত্রী কৌশলী ভাষায় কর বৃদ্ধির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, যা সাধারণ মানুষের জীবন এবং পোশাকশিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকার ‘করের উৎস বাড়ানো’ বা ‘করের জাল’ তৈরির কথা বলে নাগরিক জীবনের ওপর সৃষ্ট চাপকে শব্দচাতুর্যের মাধ্যমে আড়াল করার চেষ্টা করেছে। তিনি সতর্ক করেন যে, সরকার ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিলে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের ওপর।

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনটি বড় বাধা রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, প্রথমত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান সংকট বাজেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে পুশইন ও ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ধামইরহাটে বিক্ষোভ

বাজেটকে ‘বিশাল ঘাটতি ও ঋণনির্ভর’ আখ্যা দিল জামায়াত

আপডেট সময় : ০৬:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সরকারঘোষিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘বিশাল ঘাটতি ও ব্যাপক ঋণনির্ভর’ বলে মন্তব্য করেছে বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাজেট প্রতিক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব মন্তব্য করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট প্রস্তাব করেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষিত বাজেটে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। দেশকে স্বনির্ভর ও দুর্নীতিমুক্ত করার কোনো রূপরেখাও এই বাজেটে পরিলক্ষিত হয়নি। বিশেষ করে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে এই বাজেট বাস্তবায়নে ব্যাপক দুর্নীতি হবে এবং দলীয় কর্মীদের মাঝে দুর্নীতির টাকা ভাগ-বাটোয়ারার একটি আয়োজন হিসেবে পরিগণিত হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘোষিত বাজেটের প্রধান দুর্বলতা হলো এটি একটি বিশাল অঙ্কের ঘাটতি বাজেট। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে ঘাটতি বাজেট প্রথা হলেও এবারের বাজেটটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্কের ঘাটতি বাজেট। এটি ব্যাপকভাবে ঋণনির্ভর, যেখানে ব্যাংক ঋণ এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল জানান, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই বাজেটের অর্থসংস্থান করতে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, ফলে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। তবে এই বিশাল রাজস্ব আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় কর কাঠামো বা দুর্নীতিমুক্ত কর প্রশাসনের অভাব লক্ষ্য করা গেছে।

গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, অর্থমন্ত্রী কৌশলী ভাষায় কর বৃদ্ধির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, যা সাধারণ মানুষের জীবন এবং পোশাকশিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকার ‘করের উৎস বাড়ানো’ বা ‘করের জাল’ তৈরির কথা বলে নাগরিক জীবনের ওপর সৃষ্ট চাপকে শব্দচাতুর্যের মাধ্যমে আড়াল করার চেষ্টা করেছে। তিনি সতর্ক করেন যে, সরকার ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিলে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের ওপর।

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনটি বড় বাধা রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, প্রথমত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান সংকট বাজেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।