রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই সিদ্ধান্তের পর হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করেছেন অনেক রোগী, তবে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাসপাতাল প্রাঙ্গণে রোগী ও স্বজনদের ক্ষোভ প্রকাশ ও বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।
জুমার নামাজের পর এনআইসিইউতে ভর্তি থাকা কয়েকজন নবজাতকের মা-বাবা ও স্বজনরা নিচে নেমে সাংবাদিকদের সামনে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা চিকিৎসাসেবার গুরুত্ব বিবেচনা করে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
মো. রাসেল নামে এক রোগীর স্বজন জানান, চার দিন আগে তার স্ত্রীর সিজারে দুটি সন্তানের জন্ম হয় এবং জন্মের পর থেকেই তারা এনআইসিইউতে রয়েছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখন এই দুই বাচ্চাকে নিয়ে আমি কোথায় যাব? এই অবস্থায় বাচ্চাদের সরানো আরও ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণার পর থেকেই টেনশনে আছি। কী করব, কোথায় যাব কিছুই মাথায় আসছে না।’
মো. শরীফ নামের আরেকজন জানান, তার শিশুসন্তান ১০ দিন ধরে এনআইসিইউতে ভর্তি এবং অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘শ্বাসকষ্টের বাচ্চার অক্সিজেন লেভেল কম। এই অবস্থায় কোথাও স্থানান্তর হলে বাচ্চার যদি কিছু হয়, তাহলে দায়ভার কে নেবে?’
চিকিৎসাধীন অনেক রোগী ও স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো এবং খরচও কম। তাই তারা হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি করছেন।
রোগী ও স্বজনরা আরও জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে মারা যাওয়া নবজাতকদের পরিবারের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তাদের মতে, এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি প্রতিষ্ঠিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতি এমন কঠোর পদক্ষেপ সরকারের ঠিক হয়নি। তবে শুক্রবার বেশ কিছু রোগীকে হাসপাতাল ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। আইসিইউ, এনআইসিইউ, এইচডিইউ ও সিসিইউতে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২৪৩ জন সাধারণ রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে এনআইসিইউতে ৫০ জন নবজাতক, আইসিইউতে ১৩ জন এবং সিসিইউতে ৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন। আগের দিন ৪৩১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, যা লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণার পর দ্রুত কমে এসেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























