আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী কৌশলে এক বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অন্তত ১১৭টি আসনে বিএনপির ১৯০ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকায় এমন ১৫টি আসনও রয়েছে যেগুলো যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্য জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র বাছাই ও প্রত্যাহারের সময়সীমার মধ্যে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে, যেখানে প্রতিটি আসনে গড়ে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে বিএনপি কিছু আসনে পরিকল্পিতভাবে ‘বিকল্প প্রার্থী’ রেখেছে। বিশেষ করে প্রার্থীদের আইনি জটিলতা, ঋণখেলাপি সমস্যা বা শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনায় রেখে এই সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তিনটি আসনেই (ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩) বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আসনে তার ছেলে খন্দকার মারুফ হোসেন এবং মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে মিজানুর রহমান সিনহার পরিবর্তে আবদুস সালাম আজাদকে বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, বাছাই প্রক্রিয়ায় মূল প্রার্থী অযোগ্য ঘোষিত হলে এই বিকল্প প্রার্থীরাই ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
অন্যদিকে, যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে বিএনপির নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া জোটের ঐক্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। ঢাকা-১২ আসনে জোটের প্রার্থী সাইফুল হকের বিপরীতে সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব এবং ভোলা-১ আসনে আন্দালিভ রহমান পার্থের বিপরীতে স্থানীয় নেতা গোলাম নবী আলমগীর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। একইভাবে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থীদের আসনগুলোতেও বিএনপির একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। যদিও দলীয় পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার না করলে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র জানা যাবে ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর।
রিপোর্টারের নাম 

























