আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে মূলত দুটি বৃহৎ রাজনৈতিক জোটের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে। একদিকে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট এবং অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন একটি নতুন জোট।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের সমস্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে না। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো দলটি জাতীয় নির্বাচন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়ল, যদিও তারা ২০০৯ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় ছিল।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানানো হলেও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় থাকা শেখ হাসিনা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা ছাত্র-নেতৃত্বাধীন নতুন দল এনসিপি জামায়াতে ইসলামীসহ আরও নয়টি দলের সাথে নির্বাচনী জোট গঠন করেছে। জামায়াতের সাথে এই জোটবদ্ধ হওয়া নিয়ে এনসিপি সমালোচনার মুখে পড়েছে এবং প্রতিবাদস্বরূপ তাদের কিছু নেতা পদত্যাগও করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর জন্য এই নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘ রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তারা আবার ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতে মাওলানা সৈয়দ আবুল আ’লা মওদুদীর মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংগঠনটির ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে দলটির ভূমিকা এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতার অভিযোগ থাকলেও তারা নিজেদের একটি আধুনিক ও ইসলামি আদর্শের গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দাবি করে। স্বাধীনতার পর নিষিদ্ধ হওয়া থেকে শুরু করে আশির দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন এবং ২০০১ সালে বিএনপি জোটের হয়ে সরকারে থাকা, সব মিলিয়ে তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমা রয়েছে।
তবে ২০১০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের বিচারে শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি ও ২০১৩ সালে নিবন্ধন বাতিলের কারণে দলটি বড় সংকটে পড়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের জুনে জামায়াত পুনরায় তাদের নিবন্ধন ফিরে পায়। বর্তমানে এনসিপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে দলটি নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও ছাত্র রাজনীতিতে তাদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা দেশের রাজনীতিকে ডানপন্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জামায়াত এখন সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির ওপর জোর দিচ্ছে যাতে ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়।
রিপোর্টারের নাম 
























