দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে গত সপ্তাহে ঢাকায় ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই প্রত্যাবর্তন কেবল বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই উদ্দীপনা জাগায়নি, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমানের ঘোষিত ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি এবং ভারতের সাথে সম্পর্কের নতুন মাত্রা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
তারেক রহমান ঢাকায় অবতরণের পর বিশাল জনসমুদ্রে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাংলাদেশির জন্য একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন তুলে ধরেছেন। বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তার এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে যে, নির্বাচনে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। এমন পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপিকে একটি সুসংহত অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সাথে বিএনপির সম্পর্ক কিছুটা শীতল থাকলেও, বর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে। ভারত ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগকে ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করলেও শেখ হাসিনার নির্বাসন এবং বর্তমান বাস্তবতায় তারা বিএনপির সাথে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।
তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, তার পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশ আগে’। তিনি ভারত, চীন এবং পাকিস্তানের সাথে সমদূরত্ব বজায় রেখে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিএনপি দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগ করে উদারপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ ও মধ্যপন্থী ভোটারদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে।
যদিও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে রাজনীতিকদের অতীত রেকর্ড সবসময় সন্তোষজনক নয়, তবুও ভারতের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির উদাহরণ হিসেবে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তারেক রহমান যদি তার বর্তমান লক্ষ্য ও দর্শনে অটল থাকেন, তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের পাশাপাশি ভারতের সাথেও একটি নতুন ও শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























