কোনো জাতির মুক্তি ও স্বাধীনতা অর্জন রাতারাতি ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি বহু বছরের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্দোলন এবং কখনও কখনও সশস্ত্র সংগ্রামের ফসল। ইতিহাস সাক্ষী, প্রতিটি স্বাধীনতাপ্রাপ্তির মূলে রয়েছে জনগণের ঐক্যবদ্ধ ইচ্ছা ও আত্মত্যাগ। এই পথচলা মসৃণ ছিল না, বরং দীর্ঘমেয়াদী সংগ্রাম, জীবনদান এবং নানা প্রকারের প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে এর ভিত্তিভূমি রচিত হয়েছে।
কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও এর কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং তা সমগ্র জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। ইতিহাস সর্বদা সেইসব ব্যক্তিদের স্মরণ করে যারা বৃহত্তর স্বার্থে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দিকে তাকালে এর অসংখ্য উদাহরণ পাওয়া যায়। ভিয়েতনাম প্রায় ২৮ বছর ধরে ঔপনিবেশিক শাসন ও বৈদেশিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। একইভাবে, উত্তর আফ্রিকার আলজেরিয়া ফরাসি ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে দীর্ঘ আট বছর ধরে সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত ছিল। লিবিয়াও প্রায় ২২ বছর ধরে ইতালির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে স্বাধীনতার জন্য। এই দীর্ঘ সংগ্রামগুলোর দিকে তাকালে বোঝা যায়, স্বাধীনতা কেবল একটি অর্জনের বিষয় নয়, বরং তা বহু ত্যাগ ও প্রতিরোধের এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রেক্ষাপটও এমনভাবেই দীর্ঘ ও জটিল। ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মাত্র ছয় বছর পরেই বাংলার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষক সমাজ, তাদের মাতৃভূমি যে বিদেশিদের দখলে চলে গেছে, তা উপলব্ধি করতে শুরু করে। যদিও তারা ঔপনিবেশিকতার তাত্ত্বিক দিকটি হয়তো পুরোপুরি বুঝতেন না, কিন্তু দখলদারিত্বের বাস্তব সত্যটি তারা ঠিকই অনুধাবন করেছিলেন। ১৭৬৩ সাল থেকেই ব্রিটিশ শাসিত বাংলায় কৃষকদের মধ্যে এই উপলব্ধি দানা বাঁধতে শুরু করে, যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিরোধ ও আন্দোলনের জন্ম দেয়।
রিপোর্টারের নাম 






















