বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীনতার পর প্রণীত সংবিধানেও সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য দূরীকরণ এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘোষণাগুলোর মাধ্যমে একটি শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছিল। তবে, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দীর্ঘ ৫৪ বছরে দেশ অনেক ক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করলেও, শোষণ ও বৈষম্যের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দারিদ্র্য হ্রাসে সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও, প্রায় দুই কোটি মানুষ এখনও দরিদ্র ও হতদরিদ্র অবস্থায় নিদারুণ জীবনযাপন করছে। এর প্রধান কারণ হলো জনগণের সম্পদ বণ্টনে প্রকৃত ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা যায়নি, যার ফলে সমাজের মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে সম্পদের সিংহভাগ কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট সম্পদের ৫৮.৫ শতাংশের মালিকানা মাত্র ১০ শতাংশ বিত্তবান মানুষের হাতে। এই বিপুল বৈষম্য রাতারাতি সৃষ্টি হয়নি, বরং বিগত ৫৩ বছরে তা ধীরে ধীরে পুঞ্জীভূত হয়েছে। বিশেষ করে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে লাগামহীন দুর্নীতির কারণে এই বৈষম্যের মাত্রা আরও দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৈষম্য বৃদ্ধির পেছনে যে কারণগুলো বিদ্যমান, সেগুলোর প্রতিকারের জন্য কার্যকর কর্মসূচির অভাব পরিলক্ষিত হয়। তবে, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় দেশে দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন প্রকল্প চালু রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ভিজিডি, ভিজিএফ, কর্মসংস্থান প্রকল্প, ওএমএস, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদান। প্রতি বছর বাজেটে এই ভাতার পরিমাণ কিছুটা হলেও বাড়ানো হয়ে থাকে। বর্তমানে প্রায় ৬১ লাখ মানুষ বয়স্ক ভাতা (মাসিক ৬৫০ টাকা), ২৯ লাখ বিধবা মহিলা (মাসিক ৬৫০ টাকা), ৩৪.৫০ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি (মাসিক ৯০০ টাকা) এবং ১৭ লাখ মা ও শিশু (মাসিক ৮৫০ টাকা) এই সুবিধাগুলো ভোগ করছেন।
সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির জন্য ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সাধারণত, সরকার মোট জিডিপির প্রায় ২ থেকে ২.৫০ শতাংশ এই খাতে ব্যয় করে থাকে।
রিপোর্টারের নাম 






















