ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

শিশুশ্রম: ইসলাম ও আইনের চোখে অগ্রহণযোগ্য, জাতীয় শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে উদ্বেগ

আজ ১২ জুন জাতীয় শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। উপার্জন করতে গিয়ে শিশুর বিপদ, ঝুঁকি, শোষণ ও বঞ্চনার সম্মুখীন হলে তাকে শিশুশ্রম হিসেবে গণ্য করা হয়। ‘বাংলাদেশের জাতীয় শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮)’ অনুযায়ী, কাজে নিয়োগের সর্বনিম্ন বয়স ১৪ বছর। তবে ১২ থেকে ১৪ বছরের শিশুরা হালকা কাজে নিয়োজিত হতে পারবে, যদি তাদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত না হয়। তবে ‘হালকা কাজ’র কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা আইনে উল্লেখ নেই। এই আইন থাকা সত্ত্বেও ‘জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২’-এর তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৭ জন শিশুশ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ লাখ ১০ হাজার শিশু কোনো পারিশ্রমিক পায় না। যারা পারিশ্রমিক পায়, তাদের গড় মাসিক আয় মাত্র ৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশের ৩৮টি সেক্টরে প্রায় ১৭ লাখেরও বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিযুক্ত রয়েছে।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেও শিশুশ্রম সমর্থনযোগ্য নয়। ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত সন্তানের সকল দায়িত্ব পিতার ওপর ন্যস্ত। এই বয়সে শিশুরা সাধারণত পরনির্ভরশীল ও দায়িত্ব পালনে সক্ষম নয়, তাই তাদের ওপর কোনো কাজের বোঝা চাপানো উচিত নয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।’ (সুরা বাকারা: ২৮৬)। এটি স্পষ্ট করে যে, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতার বাইরে কোনো কাজ চাপিয়ে দেওয়া অনুচিত। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শিশুদের প্রতি কঠোরতার বিরোধিতা করেছেন এবং তাদের প্রতি সদয় হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা শিশুদের স্নেহ করো, তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো এবং সদাচরণ ও শিষ্টাচার শিক্ষা দাও।’ (তিরমিজি)।

মহান আল্লাহর দয়া লাভের জন্য শিশুদের প্রতি দয়াশীল হওয়া অপরিহার্য। হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না।’ (বুখারি: ৫৯৯৭)। যারা ছোটদের প্রতি সদয় হয় না, তারা নবীজির উম্মত নয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের শ্রদ্ধা করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (আবু দাউদ: ৪৯৪৩)। শিশুরা পরিবারের শোভা এবং তাদের ছাড়া কোনো পরিবার পূর্ণতা পায় না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা।’ (সুরা আল-কাহফ: ৪৬)। কাজ করার জন্য যে শক্তি-সামর্থ্যের প্রয়োজন, তা একটি শিশুর থাকে না। তাই, ‘আজকের শিশু আনবে আলো, বিশ্বটাকে রাখবে ভালো’—এই প্রত্যাশা পূরণে শিশুদের সুরক্ষা ও বিকাশ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

শিশুশ্রম: ইসলাম ও আইনের চোখে অগ্রহণযোগ্য, জাতীয় শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৭:০৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

আজ ১২ জুন জাতীয় শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। উপার্জন করতে গিয়ে শিশুর বিপদ, ঝুঁকি, শোষণ ও বঞ্চনার সম্মুখীন হলে তাকে শিশুশ্রম হিসেবে গণ্য করা হয়। ‘বাংলাদেশের জাতীয় শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮)’ অনুযায়ী, কাজে নিয়োগের সর্বনিম্ন বয়স ১৪ বছর। তবে ১২ থেকে ১৪ বছরের শিশুরা হালকা কাজে নিয়োজিত হতে পারবে, যদি তাদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত না হয়। তবে ‘হালকা কাজ’র কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা আইনে উল্লেখ নেই। এই আইন থাকা সত্ত্বেও ‘জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২’-এর তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৭ জন শিশুশ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ লাখ ১০ হাজার শিশু কোনো পারিশ্রমিক পায় না। যারা পারিশ্রমিক পায়, তাদের গড় মাসিক আয় মাত্র ৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশের ৩৮টি সেক্টরে প্রায় ১৭ লাখেরও বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিযুক্ত রয়েছে।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেও শিশুশ্রম সমর্থনযোগ্য নয়। ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত সন্তানের সকল দায়িত্ব পিতার ওপর ন্যস্ত। এই বয়সে শিশুরা সাধারণত পরনির্ভরশীল ও দায়িত্ব পালনে সক্ষম নয়, তাই তাদের ওপর কোনো কাজের বোঝা চাপানো উচিত নয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।’ (সুরা বাকারা: ২৮৬)। এটি স্পষ্ট করে যে, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতার বাইরে কোনো কাজ চাপিয়ে দেওয়া অনুচিত। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শিশুদের প্রতি কঠোরতার বিরোধিতা করেছেন এবং তাদের প্রতি সদয় হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা শিশুদের স্নেহ করো, তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো এবং সদাচরণ ও শিষ্টাচার শিক্ষা দাও।’ (তিরমিজি)।

মহান আল্লাহর দয়া লাভের জন্য শিশুদের প্রতি দয়াশীল হওয়া অপরিহার্য। হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না।’ (বুখারি: ৫৯৯৭)। যারা ছোটদের প্রতি সদয় হয় না, তারা নবীজির উম্মত নয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের শ্রদ্ধা করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (আবু দাউদ: ৪৯৪৩)। শিশুরা পরিবারের শোভা এবং তাদের ছাড়া কোনো পরিবার পূর্ণতা পায় না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা।’ (সুরা আল-কাহফ: ৪৬)। কাজ করার জন্য যে শক্তি-সামর্থ্যের প্রয়োজন, তা একটি শিশুর থাকে না। তাই, ‘আজকের শিশু আনবে আলো, বিশ্বটাকে রাখবে ভালো’—এই প্রত্যাশা পূরণে শিশুদের সুরক্ষা ও বিকাশ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।