২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র নতুন এক রূপ নিচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার সাম্প্রতিক জোট গঠন ঢাকার ক্ষমতার সমীকরণ আমূল বদলে দিয়েছে। এই জোট যেমন বিরোধী শিবিরে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, তেমনি এটি এনসিপির অভ্যন্তরে চরম অসন্তোষ ও ভাঙনেরও সৃষ্টি করেছে।
এনসিপি এবং জামায়াতের মধ্যে আসন ভাগাভাগির চুক্তিটি নিশ্চিত করেছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি জানান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) সহ আরও কয়েকটি ছোট দল নিয়ে এই ১০ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে। এনসিপি প্রাথমিকভাবে ৩০০ আসনেই স্বতন্ত্র লড়াই করার কথা বললেও, বর্তমানে জামায়াতের সঙ্গে ৩০ থেকে ৫০টি আসনের সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে এই সিদ্ধান্ত দলটির ভেতরে রক্তক্ষরণ শুরু করেছে। এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম একে ‘কৌশলগত ঐক্য’ হিসেবে দাবি করলেও, অন্তত ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে চিঠি দিয়েছেন। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ডক্টর তাজনুভা জাবিন এবং তাসনিম জারা ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আলোচিত মুখ মাহফুজ আলমও এই জোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, ১৭ বছর পর দেশে ফেরা বিএনপি নেতা তারেক রহমান এবং তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের উপস্থিতি নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি এনেছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অনুপস্থিত থাকায় বিএনপিকে মূল ফেভারিট মনে করা হলেও, এনসিপি-জামায়াত জোট একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় শক্তি’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করছে। এই নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ একদিকে যেমন তারেক রহমানের নেতৃত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে, ছাত্র ও ইসলামপন্থীদের এই জোট সাধারণ ভোটার এবং বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও উদারপন্থীদের মধ্যে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























