ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

খালেদা জিয়ার তিন আসনে বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত, একাধিক আসনে রদবদলে ব্যস্ত বিএনপি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা, সেগুলোর প্রতিটিতেই বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রেখেছে দলটি। বগুড়া, দিনাজপুর ও ফেনীর ওই তিন আসনের জন্য খালেদা জিয়ার নামে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আজ সেগুলো জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

একই সঙ্গে নির্বাচনি কৌশলের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বিএনপি। মাঠপর্যায়ের জরিপ, দলীয় অসন্তোষ এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ বিবেচনায় নিয়ে ‘ধানের শীষের বিজয়’ নিশ্চিত করতেই এসব রদবদল করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। আজই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।

এদিকে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এখনো সংকটময় সময় পার করছেন। এই বাস্তবতায় তাঁর তিনটি আসনেই বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দলীয় একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ফেনী-১ (ফুলগাজী-পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া) আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র আজ জমা দেবেন ওই আসনের নির্বাচন সমন্বয়ক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম (মজনু)। খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে না পারলে তিনিই সেখানে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন।

অন্যদিকে বগুড়া-৭ (গাবতলী) আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম এবং দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে সাবেক পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনে নিজেরাও মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

প্রার্থী পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বিএনপি ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও মিত্রদের জন্যও ১৫টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। তবে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন বা নতুন মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, আজই প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে।

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্ট) আসনেও নির্বাচন করবেন। ইতোমধ্যে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি সমন্বয়ক হিসেবে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই আসনে আগে জোটপ্রার্থী থাকা বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ ভোলা সদর আসনে নির্বাচন করবেন।

ঢাকা-১২ আসনে ঘোষিত প্রার্থী সাইফুল আলম নীরবের পরিবর্তে আসনটি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে দেওয়া হয়েছে। তিনি ‘কোদাল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ব্যবসায়ী মো. মাসুদুজ্জামানের অনীহার কারণে সেখানে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামেও একাধিক আসনে প্রার্থী বদল হয়েছে। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবর্তে গোলাম আকবর খন্দকারকে প্রার্থী করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার পর গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দলীয় পদ স্থগিত এবং উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে, যা আগে এলডিপির জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছিল, সেখানে অলি আহমদের জামায়াত জোটে যোগদানের পর বিএনপি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিমউদ্দিনকে প্রার্থী করেছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম-১০ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনে প্রয়াত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমানের আইনি জটিলতার কারণে সেখানে বিএনপি নেতা মীর শাহে আলমকে প্রার্থী করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সিগঞ্জ, ঝিনাইদহ, নড়াইল, যশোর ও মাদারীপুরের একাধিক আসনেও প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহ-১ আসনে সদ্য পদত্যাগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানকে এবং নড়াইল-২ আসনে এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি দুই দফায় ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে। পরে মিত্রদের জন্য আরও ১৫টি আসন ছাড় দেওয়া হয়। বাকি আসনগুলোর মনোনয়নও চূড়ান্ত হলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, কার্যত ৩০০ আসনের মনোনয়নই চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে মনোনয়ন দেওয়ায় সবগুলো একসঙ্গে ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, এটি নির্বাচনি রাজনীতিতে অস্বাভাবিক নয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শেষ মুহূর্তেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার কমিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

খালেদা জিয়ার তিন আসনে বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত, একাধিক আসনে রদবদলে ব্যস্ত বিএনপি

আপডেট সময় : ০১:১৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা, সেগুলোর প্রতিটিতেই বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রেখেছে দলটি। বগুড়া, দিনাজপুর ও ফেনীর ওই তিন আসনের জন্য খালেদা জিয়ার নামে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আজ সেগুলো জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

একই সঙ্গে নির্বাচনি কৌশলের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বিএনপি। মাঠপর্যায়ের জরিপ, দলীয় অসন্তোষ এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ বিবেচনায় নিয়ে ‘ধানের শীষের বিজয়’ নিশ্চিত করতেই এসব রদবদল করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। আজই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।

এদিকে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এখনো সংকটময় সময় পার করছেন। এই বাস্তবতায় তাঁর তিনটি আসনেই বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দলীয় একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ফেনী-১ (ফুলগাজী-পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া) আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র আজ জমা দেবেন ওই আসনের নির্বাচন সমন্বয়ক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম (মজনু)। খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে না পারলে তিনিই সেখানে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন।

অন্যদিকে বগুড়া-৭ (গাবতলী) আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম এবং দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে সাবেক পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনে নিজেরাও মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

প্রার্থী পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বিএনপি ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও মিত্রদের জন্যও ১৫টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। তবে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন বা নতুন মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, আজই প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে।

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্ট) আসনেও নির্বাচন করবেন। ইতোমধ্যে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি সমন্বয়ক হিসেবে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই আসনে আগে জোটপ্রার্থী থাকা বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ ভোলা সদর আসনে নির্বাচন করবেন।

ঢাকা-১২ আসনে ঘোষিত প্রার্থী সাইফুল আলম নীরবের পরিবর্তে আসনটি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে দেওয়া হয়েছে। তিনি ‘কোদাল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ব্যবসায়ী মো. মাসুদুজ্জামানের অনীহার কারণে সেখানে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামেও একাধিক আসনে প্রার্থী বদল হয়েছে। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবর্তে গোলাম আকবর খন্দকারকে প্রার্থী করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার পর গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দলীয় পদ স্থগিত এবং উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে, যা আগে এলডিপির জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছিল, সেখানে অলি আহমদের জামায়াত জোটে যোগদানের পর বিএনপি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিমউদ্দিনকে প্রার্থী করেছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম-১০ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনে প্রয়াত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমানের আইনি জটিলতার কারণে সেখানে বিএনপি নেতা মীর শাহে আলমকে প্রার্থী করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সিগঞ্জ, ঝিনাইদহ, নড়াইল, যশোর ও মাদারীপুরের একাধিক আসনেও প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহ-১ আসনে সদ্য পদত্যাগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানকে এবং নড়াইল-২ আসনে এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি দুই দফায় ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে। পরে মিত্রদের জন্য আরও ১৫টি আসন ছাড় দেওয়া হয়। বাকি আসনগুলোর মনোনয়নও চূড়ান্ত হলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, কার্যত ৩০০ আসনের মনোনয়নই চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে মনোনয়ন দেওয়ায় সবগুলো একসঙ্গে ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, এটি নির্বাচনি রাজনীতিতে অস্বাভাবিক নয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শেষ মুহূর্তেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।