ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সিরিয়ায় মসজিদে জুমার নামাজে বোমা হামলায় নিহত ৮

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

সিরিয়ার হোমস শহরের একটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, শহরটির ওয়াদি আলদাহাব পাড়ার ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব মসজিদে এই হামলা চালানো হয়। এলাকাটি মূলত দেশটির সংখ্যালঘু আলাউয়ি সম্প্রদায়ের মানুষের প্রধান বসতি হিসেবে পরিচিত।

সানার প্রকাশিত ছবিতে মসজিদের ভেতরে ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। এতে দেখা গেছে, মসজিদের দেয়ালগুলো পুড়ে কালো হয়ে গেছে, জানালার কাঁচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ছড়িয়ে আছে এবং মেঝের কার্পেটে রক্তের দাগ লেগে আছে। একটি গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সানা জানিয়েছে, মসজিদের ভেতরে বিস্ফোরক রেখে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

সুন্নি উগ্রপন্থি গোষ্ঠী সারায়া আনসার আলসুন্নাহ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, অন্য একটি অজ্ঞাত গোষ্ঠীর সহযোগিতায় তারা এই হামলা চালিয়েছে। গত জুন মাসে দামেস্কে একটি গির্জায় ভয়াবহ বোমা হামলার মাধ্যমে এই গোষ্ঠীটি প্রথম আলোচনায় আসে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এটি উগ্রবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি ছদ্মবেশী দল হতে পারে।

এই গোষ্ঠীটি গত কয়েক মাস নিষ্ক্রিয় থাকার পর আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সাবেক বাশার আলআসাদ সরকারের অনুসারীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স(সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই কাপুরুষোচিত কাজ মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর চরম আঘাত। এটি দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি অপচেষ্টা।

সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আলআসাদ নিজে আলাউয়ি সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। এক বছর আগে বিদ্রোহী বাহিনীগুলোর হাতে আসাদ সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকেই দেশটিতে বিভিন্ন সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা দেখা দিচ্ছে। আসাদ ও তার পরিবার বর্তমানে রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। গত মার্চ মাসেও লাতাকিয়া প্রদেশে কয়েক ডজন আলাউয়ি সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাঁচ খাতের, যা মোট ব্যয়ের ৫৮ শতাংশ

সিরিয়ায় মসজিদে জুমার নামাজে বোমা হামলায় নিহত ৮

আপডেট সময় : ১১:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

সিরিয়ার হোমস শহরের একটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, শহরটির ওয়াদি আলদাহাব পাড়ার ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব মসজিদে এই হামলা চালানো হয়। এলাকাটি মূলত দেশটির সংখ্যালঘু আলাউয়ি সম্প্রদায়ের মানুষের প্রধান বসতি হিসেবে পরিচিত।

সানার প্রকাশিত ছবিতে মসজিদের ভেতরে ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। এতে দেখা গেছে, মসজিদের দেয়ালগুলো পুড়ে কালো হয়ে গেছে, জানালার কাঁচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ছড়িয়ে আছে এবং মেঝের কার্পেটে রক্তের দাগ লেগে আছে। একটি গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সানা জানিয়েছে, মসজিদের ভেতরে বিস্ফোরক রেখে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

সুন্নি উগ্রপন্থি গোষ্ঠী সারায়া আনসার আলসুন্নাহ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, অন্য একটি অজ্ঞাত গোষ্ঠীর সহযোগিতায় তারা এই হামলা চালিয়েছে। গত জুন মাসে দামেস্কে একটি গির্জায় ভয়াবহ বোমা হামলার মাধ্যমে এই গোষ্ঠীটি প্রথম আলোচনায় আসে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এটি উগ্রবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি ছদ্মবেশী দল হতে পারে।

এই গোষ্ঠীটি গত কয়েক মাস নিষ্ক্রিয় থাকার পর আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সাবেক বাশার আলআসাদ সরকারের অনুসারীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স(সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই কাপুরুষোচিত কাজ মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর চরম আঘাত। এটি দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি অপচেষ্টা।

সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আলআসাদ নিজে আলাউয়ি সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। এক বছর আগে বিদ্রোহী বাহিনীগুলোর হাতে আসাদ সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকেই দেশটিতে বিভিন্ন সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা দেখা দিচ্ছে। আসাদ ও তার পরিবার বর্তমানে রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। গত মার্চ মাসেও লাতাকিয়া প্রদেশে কয়েক ডজন আলাউয়ি সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে।