ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

জাসাস নেতাকে কুপিয়ে হত্যার নেপথ্যে জমি নিয়ে বিরোধ, অভিযোগ বাবার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের শ্রীপুরে জাসাস নেতা ফরিদ সরকারকে (৪১) জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে নিজ বাড়িতে নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন সরকার সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ফারুক হোসেন ছয় জনের নাম উল্লেখ করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির আহমদ মামলার বিষয়টি জানান।

নিহত ফরিদ সরকার শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিন গোসিংগা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন আগে থেকে লতিফপুর গ্রামের কে বি এম ব্রিকস নামের ইটভাটায় মাটি সরবরাহের কাজ দেখভাল করতেন।

মামলায় কাপাসিয়া উপজেলার সূর্য নারায়নপুর (ভুবনেরচালা) গ্রামের তারা ডাকাত (৪০), নারায়ণপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন (৫০), হালিম (৫৫), মোতাহার মাস্টার (৬০), হৃদয় হাসান জয় (২০) এবং টিটুকে (২৫) আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক। মামলায় উল্লেখ করা হয় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোর ৪টার দিকে কে বি এম ব্রিকস ইটভাটায় ফরিদ সরকারকে রামদা এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে আসামিরা।

নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমাদের আট বিঘা জমি নিয়ে আসামি আনোয়ারের সঙ্গে তিন-চার বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জেরে আনোয়ার ১৬ নভেম্বর রাতে আমাকে ও আমার বড় ছেলে ফারুক হোসেনকে বাড়ির পাশে হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় আমার ছেলে ফরিদ সরকার পরদিন বাবা ও বড় ভাইয়ের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল। জিডি করার পর পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এ সুযোগে আসামিরা আমার ছেলেকে মোবাইলে ডেকে ইটভাটায় নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) খোরশেদ আলম রফিক বলেন, ‘ওই দিন সকালে কে বি এম ব্রিকসের ম্যানেজার অজিত সরকার আমাকে ফোন করে জানায় ফরিদকে দুর্বৃত্তরা ইটভাটায় কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। আহত অবস্থায় ফরিদ ম্যানেজারের কাছ থেকে ফোন নিয়ে আমাকে বলেছিল ভাই মারধর করে আমার হাত কেটে ফেলেছে তারা। কারা কুপিয়েছে জিজ্ঞাসা করলে বলেছিল তারা ডাকাত কুপিয়েছে। ফরিদের বাবাকে জানালে তিনি ইটভাটায় গিয়ে দেখেন ছেলে মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছে। পরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।’

শ্রীপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) আহ্বায়ক হেলাল প্রধান বলেন, ‘জাসাস নেতা ফরিদ সরকারকে হত্যার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ একজন আসামি ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে চিহ্নিত খুনিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় বুধবার আসামি টিটুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই অন্যান্য আসামি গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’

শ্রীপুর থানার ওসি নাসির আহমদ বলেন, ‘ঘটনার পর কে বি এম ব্রিকসের ম্যানেজার অজিত সরকার, ইটভাটা শ্রমিক মিনারুল, নাহিদ হাসান, উসমান, জাকির হোমেন, আগুন মিস্ত্রি শফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় মেম্বারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।’

কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মেরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ক্লু পেয়েছে এবং সেই ক্লু অনুযায়ী আমরা আসামিদের ধরার চেষ্টা করছি। আশার করছি, অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

জাসাস নেতাকে কুপিয়ে হত্যার নেপথ্যে জমি নিয়ে বিরোধ, অভিযোগ বাবার

আপডেট সময় : ০৮:৫১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

গাজীপুরের শ্রীপুরে জাসাস নেতা ফরিদ সরকারকে (৪১) জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে নিজ বাড়িতে নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন সরকার সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ফারুক হোসেন ছয় জনের নাম উল্লেখ করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির আহমদ মামলার বিষয়টি জানান।

নিহত ফরিদ সরকার শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিন গোসিংগা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন আগে থেকে লতিফপুর গ্রামের কে বি এম ব্রিকস নামের ইটভাটায় মাটি সরবরাহের কাজ দেখভাল করতেন।

মামলায় কাপাসিয়া উপজেলার সূর্য নারায়নপুর (ভুবনেরচালা) গ্রামের তারা ডাকাত (৪০), নারায়ণপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন (৫০), হালিম (৫৫), মোতাহার মাস্টার (৬০), হৃদয় হাসান জয় (২০) এবং টিটুকে (২৫) আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক। মামলায় উল্লেখ করা হয় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোর ৪টার দিকে কে বি এম ব্রিকস ইটভাটায় ফরিদ সরকারকে রামদা এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে আসামিরা।

নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমাদের আট বিঘা জমি নিয়ে আসামি আনোয়ারের সঙ্গে তিন-চার বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জেরে আনোয়ার ১৬ নভেম্বর রাতে আমাকে ও আমার বড় ছেলে ফারুক হোসেনকে বাড়ির পাশে হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় আমার ছেলে ফরিদ সরকার পরদিন বাবা ও বড় ভাইয়ের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল। জিডি করার পর পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এ সুযোগে আসামিরা আমার ছেলেকে মোবাইলে ডেকে ইটভাটায় নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) খোরশেদ আলম রফিক বলেন, ‘ওই দিন সকালে কে বি এম ব্রিকসের ম্যানেজার অজিত সরকার আমাকে ফোন করে জানায় ফরিদকে দুর্বৃত্তরা ইটভাটায় কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। আহত অবস্থায় ফরিদ ম্যানেজারের কাছ থেকে ফোন নিয়ে আমাকে বলেছিল ভাই মারধর করে আমার হাত কেটে ফেলেছে তারা। কারা কুপিয়েছে জিজ্ঞাসা করলে বলেছিল তারা ডাকাত কুপিয়েছে। ফরিদের বাবাকে জানালে তিনি ইটভাটায় গিয়ে দেখেন ছেলে মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছে। পরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।’

শ্রীপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) আহ্বায়ক হেলাল প্রধান বলেন, ‘জাসাস নেতা ফরিদ সরকারকে হত্যার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ একজন আসামি ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে চিহ্নিত খুনিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় বুধবার আসামি টিটুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই অন্যান্য আসামি গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’

শ্রীপুর থানার ওসি নাসির আহমদ বলেন, ‘ঘটনার পর কে বি এম ব্রিকসের ম্যানেজার অজিত সরকার, ইটভাটা শ্রমিক মিনারুল, নাহিদ হাসান, উসমান, জাকির হোমেন, আগুন মিস্ত্রি শফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় মেম্বারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।’

কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মেরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ক্লু পেয়েছে এবং সেই ক্লু অনুযায়ী আমরা আসামিদের ধরার চেষ্টা করছি। আশার করছি, অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ।’