ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

দুদিন পর ‘কোপা শামছু বাহিনী’ প্রধানের লাশ উদ্ধার, নিহত বেড়ে ৬

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর হাতিয়ায় চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ-গোলাগুলিতে নিহত আরেকজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার দুদিন পর বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকালে চরের একটি কিল্লা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তি চরের সন্ত্রাসী দল ‘কোপা শামছু বাহিনীর’ প্রধান মো. শামছু। সংঘর্ষের প্রত্যক্ষদর্শী ও চরের একাধিক বাসিন্দা বুধবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, সংঘর্ষে অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শামছুও ছিলেন। তবে মৃত্যুর পরপরই তার লাশ চরের মধ্যে লুকিয়ে ফেলেছেন তার সহযোগীরা। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‌‌‘কোপা শামছু বাহিনীর প্রধান মো. শামছুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বিকালে জাগলার চরের একটি কিল্লা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। সেটি থানায় আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সংঘর্ষ-গোলাগুলির ঘটনায় ছয় জনের লাশ উদ্ধার করা হলো।’

ওসি আরও জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ঘটনায় হাতিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলাটি করেছেন নিহত শামছুর ভাই আবুল বাশার।

ঘটনার দিন যে পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন- সুখচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমানুল্লাহ গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে ‘আলাউদ্দিন বাহিনীর’ প্রধান মো. আলাউদ্দিন (৪০), জাহাজমারা ইউনিয়নের পাইকবাধা গ্রামের ‘কোপা শামছু বাহিনীর’ প্রধান মো. শামছুর ছেলে মোবারক হোসেন (২৩), সুবর্ণচর উপজেলার ২ নম্বর চরবাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ চর মজিদ গ্রামের আবুল কাশেম (৬২), হাতিয়া উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীদিয়ার মৃত শাহ আলমের ছেলে হক মিয়া (৬০) ও চানন্দি ইউনিয়নের নলের চর প্রকল্প মান্নান নগরের কামাল উদ্দিন (৬০)।

গত মঙ্গলবার উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড-সংলগ্ন জাগলার চরের দখল নিয়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে হাতিয়ার মূল ভূখণ্ডের পশ্চিম পাশে মেঘনার কোলে চরটি জাগতে শুরু করে। চরটিতে এখন পর্যন্ত মানুষের স্থায়ী কোনও বসতি নেই। তবে মানুষ সেখানে পশুপালন ও চাষাবাদ করে আসছেন। এই চরের জমি সরকারিভাবে কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি।

তবে চরটির দখলে রয়েছে স্থানীয় তিনটি সন্ত্রাসী বাহিনী। আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের কাছে কম মূল্যে এসব বাহিনী জমির দখল বিক্রি করে আসছিল। মঙ্গলবার নতুন জেগে ওঠা একটি চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বাহিনী প্রধানসহ পাঁচ জন নিহত হন বলে জানায় পুলিশ। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, নিহতের সংখ্যা অন্তত আট জন। এর মধ্যে তিন জনের লাশ লুকিয়ে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে বুধবার বিকালে পুলিশ বলেছিল, তাদের কাছে এমন কোনও তথ্য নেই।

সন্ত্রাসী দল তিনটি ‘কোপা শামছু বাহিনী’ ‘আলাউদ্দিন বাহিনী’ এবং ‘ফরিদ কমান্ডারের বাহিনী’ নামে পরিচিত। এসব বাহিনীর প্রধানসহ সদস্যদের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তবে বিভিন্ন দলের আশ্রয়ে তারা অপকর্ম করে আসছেন বলে জানিয়েছেন চরের বাসিন্দারা।

মেঘনার বুকে জেগে ওঠা নতুন চর দখলকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দিনভর তিন বাহিনীর সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে পাঁচ জনের মৃত্যুর কথা জানায় পুলিশ প্রশাসন। তবে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আট জন বলে একাধিক সূত্র বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেছেন বুধবার। বিষয়টি যাচাই করার জন্য বুধবার দিনভর এই প্রতিবেদক জাগলার চর ঘুরে এসব তথ্য পেয়েছেন।

বুধবার দুপুরে চরটিতে গিয়ে দেখা যায়, গরু-মহিষ নিয়ে কিছু মানুষ চরটিতে রয়েছেন। এ ছাড়া কৃষি কাজেও ব্যস্ত দেখা যায় কয়েকজনকে। তাদের কাছে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। সংঘর্ষের প্রত্যক্ষদর্শী ও চরের একাধিক বাসিন্দা জানান, সংঘর্ষে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে কোপা শামছু বাহিনীর প্রধান শামছুসহ তিন জনের লাশ চরের মাঝখানে জেগে উঠা জঙ্গলে লুকিয়ে ফেলা হয়েছে। এজন্য তাদের লাশ পায়নি পুলিশ।

বুধবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলাউদ্দিন বাহিনীর এক সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘সংঘর্ষে শামছু বাহিনীর প্রধান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার সহযোগীরা চরের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ে সেটি প্রকাশ না করে লাশ অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছেন। তার লাশের পাশাপাশি আরও দুটি লাশ সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। এজন্য পুলিশ প্রশাসন তিন জনের লাশ পায়নি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

দুদিন পর ‘কোপা শামছু বাহিনী’ প্রধানের লাশ উদ্ধার, নিহত বেড়ে ৬

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

নোয়াখালীর হাতিয়ায় চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ-গোলাগুলিতে নিহত আরেকজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার দুদিন পর বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকালে চরের একটি কিল্লা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তি চরের সন্ত্রাসী দল ‘কোপা শামছু বাহিনীর’ প্রধান মো. শামছু। সংঘর্ষের প্রত্যক্ষদর্শী ও চরের একাধিক বাসিন্দা বুধবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, সংঘর্ষে অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শামছুও ছিলেন। তবে মৃত্যুর পরপরই তার লাশ চরের মধ্যে লুকিয়ে ফেলেছেন তার সহযোগীরা। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‌‌‘কোপা শামছু বাহিনীর প্রধান মো. শামছুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বিকালে জাগলার চরের একটি কিল্লা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। সেটি থানায় আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সংঘর্ষ-গোলাগুলির ঘটনায় ছয় জনের লাশ উদ্ধার করা হলো।’

ওসি আরও জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ঘটনায় হাতিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলাটি করেছেন নিহত শামছুর ভাই আবুল বাশার।

ঘটনার দিন যে পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন- সুখচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমানুল্লাহ গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে ‘আলাউদ্দিন বাহিনীর’ প্রধান মো. আলাউদ্দিন (৪০), জাহাজমারা ইউনিয়নের পাইকবাধা গ্রামের ‘কোপা শামছু বাহিনীর’ প্রধান মো. শামছুর ছেলে মোবারক হোসেন (২৩), সুবর্ণচর উপজেলার ২ নম্বর চরবাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ চর মজিদ গ্রামের আবুল কাশেম (৬২), হাতিয়া উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীদিয়ার মৃত শাহ আলমের ছেলে হক মিয়া (৬০) ও চানন্দি ইউনিয়নের নলের চর প্রকল্প মান্নান নগরের কামাল উদ্দিন (৬০)।

গত মঙ্গলবার উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড-সংলগ্ন জাগলার চরের দখল নিয়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে হাতিয়ার মূল ভূখণ্ডের পশ্চিম পাশে মেঘনার কোলে চরটি জাগতে শুরু করে। চরটিতে এখন পর্যন্ত মানুষের স্থায়ী কোনও বসতি নেই। তবে মানুষ সেখানে পশুপালন ও চাষাবাদ করে আসছেন। এই চরের জমি সরকারিভাবে কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি।

তবে চরটির দখলে রয়েছে স্থানীয় তিনটি সন্ত্রাসী বাহিনী। আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের কাছে কম মূল্যে এসব বাহিনী জমির দখল বিক্রি করে আসছিল। মঙ্গলবার নতুন জেগে ওঠা একটি চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বাহিনী প্রধানসহ পাঁচ জন নিহত হন বলে জানায় পুলিশ। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, নিহতের সংখ্যা অন্তত আট জন। এর মধ্যে তিন জনের লাশ লুকিয়ে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে বুধবার বিকালে পুলিশ বলেছিল, তাদের কাছে এমন কোনও তথ্য নেই।

সন্ত্রাসী দল তিনটি ‘কোপা শামছু বাহিনী’ ‘আলাউদ্দিন বাহিনী’ এবং ‘ফরিদ কমান্ডারের বাহিনী’ নামে পরিচিত। এসব বাহিনীর প্রধানসহ সদস্যদের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তবে বিভিন্ন দলের আশ্রয়ে তারা অপকর্ম করে আসছেন বলে জানিয়েছেন চরের বাসিন্দারা।

মেঘনার বুকে জেগে ওঠা নতুন চর দখলকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দিনভর তিন বাহিনীর সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে পাঁচ জনের মৃত্যুর কথা জানায় পুলিশ প্রশাসন। তবে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আট জন বলে একাধিক সূত্র বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেছেন বুধবার। বিষয়টি যাচাই করার জন্য বুধবার দিনভর এই প্রতিবেদক জাগলার চর ঘুরে এসব তথ্য পেয়েছেন।

বুধবার দুপুরে চরটিতে গিয়ে দেখা যায়, গরু-মহিষ নিয়ে কিছু মানুষ চরটিতে রয়েছেন। এ ছাড়া কৃষি কাজেও ব্যস্ত দেখা যায় কয়েকজনকে। তাদের কাছে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। সংঘর্ষের প্রত্যক্ষদর্শী ও চরের একাধিক বাসিন্দা জানান, সংঘর্ষে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে কোপা শামছু বাহিনীর প্রধান শামছুসহ তিন জনের লাশ চরের মাঝখানে জেগে উঠা জঙ্গলে লুকিয়ে ফেলা হয়েছে। এজন্য তাদের লাশ পায়নি পুলিশ।

বুধবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলাউদ্দিন বাহিনীর এক সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘সংঘর্ষে শামছু বাহিনীর প্রধান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার সহযোগীরা চরের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ে সেটি প্রকাশ না করে লাশ অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছেন। তার লাশের পাশাপাশি আরও দুটি লাশ সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। এজন্য পুলিশ প্রশাসন তিন জনের লাশ পায়নি।’