রাজশাহীতে মাসব্যাপী ১৮তম বস্ত্র ও কুটির শিল্প মেলা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে নগরীর কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার উত্তর পাশের মাঠে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করা হয়। উইমেন এন্টারপ্রিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব)-এর ২২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ওয়েব রাজশাহীর উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলা চলবে আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়েব রাজশাহী শাখার সভাপতি মোসা. আঞ্জুমান আরা পারভীন লিপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পপতি হাসেন আলী, সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক লিয়াকত আলী, সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক জিয়া উদ্দিন আহমেদ, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান এবং বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি রাজশাহীর সভাপতি মরিয়ম বেগম।
এ ছাড়া ওয়েব রাজশাহী শাখার সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা আক্তার, প্রচার সম্পাদক মৌসুমী খাতুন, প্রচার সম্পাদক শামীমা সুলতানা মায়া, সাংগঠনিক সম্পাদক সততা খাতুন, সদস্য বিপাশা দাসসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, নারী উদ্যোক্তা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে মোট ৪৫টি স্টল বসানো হয়েছে। মেলায় বেত ও বাঁশের তৈরি সামগ্রী, সিরাজগঞ্জের তাঁতবস্ত্র, গার্মেন্টস পণ্য, ক্রোকারিজ, বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী, গিফট আইটেম ও ভ্যারাইটিস পণ্যসহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের নানা পণ্য স্থান পেয়েছে। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের পাশাপাশি আধুনিক নকশার পণ্যও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের জন্য পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির পাশাপাশি নতুন ক্রেতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে। অনেক উদ্যোক্তা অনলাইনভিত্তিক ব্যবসার পাশাপাশি সরাসরি ক্রেতার মতামত জানার সুযোগ পাচ্ছেন, যা পণ্যের মান ও নকশা উন্নয়নে সহায়ক হচ্ছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ওয়েব রাজশাহী শাখার সভাপতি মোসা. আঞ্জুমান আরা পারভীন লিপি বলেন, ওয়েবের ২২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ২০০৬ সালে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পেভমেন্টে মাত্র ১০টি স্টল নিয়ে এই মেলার যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ তা বৃহৎ পরিসরে রূপ নিয়েছে। এই মেলা নারী উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস ও স্বাবলম্বীর প্রতীক।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাঁতবস্ত্র ও কুটির শিল্প মেলা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই উদ্যোক্তাদের সরাসরি ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করে। এতে উদ্যোক্তারা ন্যায্যমূল্য পান এবং কারিগররাও উৎসাহিত হন। একই সঙ্গে দেশীয় পণ্যের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ে এবং বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমে।
দর্শনার্থীরাও মেলাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, এক জায়গায় দেশীয় হস্তশিল্প ও তাঁত পণ্যের সমাহার থাকায় কেনাকাটা সহজ হচ্ছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সঙ্গে আধুনিক নকশার সমন্বয় নতুন প্রজন্মকেও আকৃষ্ট করছে। মাসব্যাপী এই তাঁত বস্ত্র ও কুটির শিল্প মেলা রাজশাহী অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রিপোর্টারের নাম 
























