ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের প্রত্যাশা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসন ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমানের বিভাজিত ও অস্থিতিশীল সমাজে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সবাই এখন তাঁর নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছেন, বিশেষ করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন, নির্বাচনের আগে সহিংসতা দমন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের গুরুদায়িত্ব তাঁর ওপরই বর্তাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, দেশে ফিরে তারেক রহমান রাজনীতিতে নতুন কোনো ‘চমক’ দেখাতে পারেন, যা আসন সমঝোতা কিংবা জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে।

বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার প্রথম অঙ্গীকারই ছিল একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পর আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সমন্বয়ে একটি ‘জনকল্যাণমূলক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ বা জাতীয় সরকার গঠন করা। ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান বারবার এই অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, তারেক রহমানের উপস্থিতি রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। তাঁর মতে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়ের মাত্র চার দিন আগে তাঁর ফেরা শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি ও দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে সহায়ক হবে। এছাড়া বিএনপি যে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিপরীতে প্রকৃত সুশাসন দিতে সক্ষম, তা প্রমাণ করা এখন দলটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তারেক রহমানের ফেরার প্রাক্কালে দেশে মব ভায়োলেন্স এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা জনমনে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি স্থিতিশীল নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারেক রহমানের প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বকেই আশার আলো হিসেবে দেখছেন সুধী সমাজ। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এক মতবিনিময় সভায় মন্তব্য করেছেন যে, দেশে তৈরি হওয়া বিপজ্জনক রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে তারেক রহমানের ভূমিকা অপরিহার্য। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য ছোট-বড় দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টিও তাঁর ফেরার পর স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি ও বিশেষ ব্যবস্থা:

  • সংবর্ধনা ও নিরাপত্তা: রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় তারেক রহমানকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দিতে বিএনপি পুরোপুরি প্রস্তুত। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতি পাওয়ার পর স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংবর্ধনাকে ঘিরে এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
  • স্পেশাল ট্রেন: সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ১০টি রুটে ‘স্পেশাল ট্রেন’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। এজন্য নিয়মিত চলাচলকারী রাজবাড়ী কমিউটারসহ তিনটি ট্রেনের ২৫ ডিসেম্বরের যাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বিশেষ ব্যবস্থা থেকে সরকারের প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় হবে।
  • বিশেষ যানবহন: নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন একটি ‘বুলেট প্রুফ বাস’ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এর আগে তাঁর ব্যবহারের জন্য একটি ল্যান্ড ক্রুজার ‘হার্ড জিপ’ গাড়িও দেশে আনা হয়েছে।

তারেক রহমানের এই ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ কেবল বিএনপির জন্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের জন্য এক টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জেদ্দায় সৌদি যুবরাজ ও শাহবাজ শরিফের বৈঠক: গুরুত্ব পেল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের প্রত্যাশা

আপডেট সময় : ১২:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসন ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমানের বিভাজিত ও অস্থিতিশীল সমাজে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সবাই এখন তাঁর নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছেন, বিশেষ করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন, নির্বাচনের আগে সহিংসতা দমন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের গুরুদায়িত্ব তাঁর ওপরই বর্তাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, দেশে ফিরে তারেক রহমান রাজনীতিতে নতুন কোনো ‘চমক’ দেখাতে পারেন, যা আসন সমঝোতা কিংবা জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে।

বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার প্রথম অঙ্গীকারই ছিল একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পর আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সমন্বয়ে একটি ‘জনকল্যাণমূলক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ বা জাতীয় সরকার গঠন করা। ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান বারবার এই অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, তারেক রহমানের উপস্থিতি রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। তাঁর মতে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়ের মাত্র চার দিন আগে তাঁর ফেরা শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি ও দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে সহায়ক হবে। এছাড়া বিএনপি যে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিপরীতে প্রকৃত সুশাসন দিতে সক্ষম, তা প্রমাণ করা এখন দলটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তারেক রহমানের ফেরার প্রাক্কালে দেশে মব ভায়োলেন্স এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা জনমনে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি স্থিতিশীল নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারেক রহমানের প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বকেই আশার আলো হিসেবে দেখছেন সুধী সমাজ। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এক মতবিনিময় সভায় মন্তব্য করেছেন যে, দেশে তৈরি হওয়া বিপজ্জনক রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে তারেক রহমানের ভূমিকা অপরিহার্য। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য ছোট-বড় দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টিও তাঁর ফেরার পর স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি ও বিশেষ ব্যবস্থা:

  • সংবর্ধনা ও নিরাপত্তা: রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় তারেক রহমানকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দিতে বিএনপি পুরোপুরি প্রস্তুত। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতি পাওয়ার পর স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংবর্ধনাকে ঘিরে এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
  • স্পেশাল ট্রেন: সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ১০টি রুটে ‘স্পেশাল ট্রেন’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। এজন্য নিয়মিত চলাচলকারী রাজবাড়ী কমিউটারসহ তিনটি ট্রেনের ২৫ ডিসেম্বরের যাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বিশেষ ব্যবস্থা থেকে সরকারের প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় হবে।
  • বিশেষ যানবহন: নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন একটি ‘বুলেট প্রুফ বাস’ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এর আগে তাঁর ব্যবহারের জন্য একটি ল্যান্ড ক্রুজার ‘হার্ড জিপ’ গাড়িও দেশে আনা হয়েছে।

তারেক রহমানের এই ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ কেবল বিএনপির জন্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের জন্য এক টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।