ঢাকা ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ ছাড়ালেও রাজস্ব ঘাটতি ২৪ হাজার কোটি টাকা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রাজস্ব আদায়ে সোয়া ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আলোচ্য পাঁচ মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। অথচ একই সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই-নভেম্বর সময়ে আমদানি ও রফতানি পর্যায় থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) থেকে আদায় হয়েছে ৫৮ হাজার ২৩১ কোটি টাকা এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর খাত থেকে এসেছে ৪৭ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা।

এনবিআর সূত্র জানায়, প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে ভালো করেছে ভ্যাট খাত— ২১ দশমিক ৯৭ শতাংশ। আয়কর খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশ এবং আমদানি-রফতানি পর্যায়ের শুল্কে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ।

তবে প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক হলেও তিনটি প্রধান খাত আমদানি শুল্ক, মূসক ও আয়কর— কোনও ক্ষেত্রেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। পাঁচ মাসে এই খাতে ঘাটতির পরিমাণ ১২ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। আয়কর থেকে এ সময়ে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা।

অপরদিকে আমদানি পর্যায়ে পাঁচ মাসে ৫০ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। ভ্যাট খাতে জুলাই-নভেম্বর সময়ে ৬২ হাজার ৪৮ কোটি টাকার লক্ষ্যের বিপরীতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

শুধু নভেম্বর মাস হিসাব করলেও রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। ওই মাসে ৩৬ হাজার ৩২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে প্রায় ২৯ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। ফলে এক মাসেই ঘাটতি দাঁড়ায় ১১ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। যদিও এ মাসে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

এনবিআর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে শ্লথগতি, আমদানি কমে যাওয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৯ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৬৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজকের ক্রীড়াঙ্গনে উত্তেজনার পারদ: পিএসএল ও ম্যানইউ-লিডসের মহারণ

প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ ছাড়ালেও রাজস্ব ঘাটতি ২৪ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় : ১০:২২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রাজস্ব আদায়ে সোয়া ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আলোচ্য পাঁচ মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। অথচ একই সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই-নভেম্বর সময়ে আমদানি ও রফতানি পর্যায় থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) থেকে আদায় হয়েছে ৫৮ হাজার ২৩১ কোটি টাকা এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর খাত থেকে এসেছে ৪৭ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা।

এনবিআর সূত্র জানায়, প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে ভালো করেছে ভ্যাট খাত— ২১ দশমিক ৯৭ শতাংশ। আয়কর খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশ এবং আমদানি-রফতানি পর্যায়ের শুল্কে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ।

তবে প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক হলেও তিনটি প্রধান খাত আমদানি শুল্ক, মূসক ও আয়কর— কোনও ক্ষেত্রেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। পাঁচ মাসে এই খাতে ঘাটতির পরিমাণ ১২ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। আয়কর থেকে এ সময়ে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা।

অপরদিকে আমদানি পর্যায়ে পাঁচ মাসে ৫০ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। ভ্যাট খাতে জুলাই-নভেম্বর সময়ে ৬২ হাজার ৪৮ কোটি টাকার লক্ষ্যের বিপরীতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

শুধু নভেম্বর মাস হিসাব করলেও রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। ওই মাসে ৩৬ হাজার ৩২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে প্রায় ২৯ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। ফলে এক মাসেই ঘাটতি দাঁড়ায় ১১ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। যদিও এ মাসে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

এনবিআর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে শ্লথগতি, আমদানি কমে যাওয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৯ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৬৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।