ঢাকা ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

দেড় বছরে অর্থনীতির রক্তক্ষরণ বন্ধ হলেও কাটেনি আস্থার সংকট

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের দেড় বছর অতিবাহিত হলেও দেশের সার্বিক অর্থনীতি এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তবে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে অর্থনীতিতে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে এবং লুটপাটে লাগাম টানা সম্ভব হয়েছে। অর্থনীতির নিম্নমুখী যাত্রা রোধ হওয়ার পাশাপাশি ডলার সংকট দূর হয়েছে এবং টাকার মানে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। বর্তমানে ডলারের দাম ১২২ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে, যা বিগত সরকারের সময় ১৩২ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বৈদেশিক মুদ্রার নিট রিজার্ভ ১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে এখন ২৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এছাড়া প্রবাস আয় ও রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিলেও অভ্যন্তরীণ খাতে এখনো অস্বস্তি বিরাজ করছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের উপরে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো চড়া।

বৈদেশিক খাতে স্বস্তি ফিরলেও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে আস্থার সংকট এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও বিদ্যমান অস্থিরতার কারণে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে সাহস পাচ্ছেন না, যার ফলে কর্মসংস্থানের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। ঋণের সুদের হার ১২ থেকে ১৮ শতাংশে উঠে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। শিল্প ও কৃষি উৎপাদনও নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে। বিগত সরকারের সময়ের নজিরবিহীন লুটপাটের ক্ষত এখন আরও স্পষ্ট হচ্ছে, যার ফলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকায়। তারল্য সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সহায়তা দিলেও ব্যাংকগুলোর সার্বিক সূচক এখনো দুর্বল।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সংস্কার কাজ চলমান থাকলেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় সরকারকে আর্থিক সংকট মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আইএমএফ-এর সুপারিশ অনুযায়ী বিভিন্ন খাতে করের বোঝা বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি, বরং অনেকের সঞ্চয় শেষ হয়ে এখন তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির ফলে বাজারে টাকার প্রবাহ কমলেও মূল্যস্ফীতি এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় নামেনি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদী যে, চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরও এগিয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদী সুফল দৃশ্যমান হবে এবং অর্থনীতির দুষ্টচক্র ভেঙে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন পরিবেশ তৈরি হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

আজকের ক্রীড়াঙ্গনে উত্তেজনার পারদ: পিএসএল ও ম্যানইউ-লিডসের মহারণ

দেড় বছরে অর্থনীতির রক্তক্ষরণ বন্ধ হলেও কাটেনি আস্থার সংকট

আপডেট সময় : ০৬:১৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের দেড় বছর অতিবাহিত হলেও দেশের সার্বিক অর্থনীতি এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তবে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে অর্থনীতিতে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে এবং লুটপাটে লাগাম টানা সম্ভব হয়েছে। অর্থনীতির নিম্নমুখী যাত্রা রোধ হওয়ার পাশাপাশি ডলার সংকট দূর হয়েছে এবং টাকার মানে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। বর্তমানে ডলারের দাম ১২২ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে, যা বিগত সরকারের সময় ১৩২ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বৈদেশিক মুদ্রার নিট রিজার্ভ ১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে এখন ২৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এছাড়া প্রবাস আয় ও রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিলেও অভ্যন্তরীণ খাতে এখনো অস্বস্তি বিরাজ করছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের উপরে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো চড়া।

বৈদেশিক খাতে স্বস্তি ফিরলেও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে আস্থার সংকট এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও বিদ্যমান অস্থিরতার কারণে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে সাহস পাচ্ছেন না, যার ফলে কর্মসংস্থানের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। ঋণের সুদের হার ১২ থেকে ১৮ শতাংশে উঠে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। শিল্প ও কৃষি উৎপাদনও নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে। বিগত সরকারের সময়ের নজিরবিহীন লুটপাটের ক্ষত এখন আরও স্পষ্ট হচ্ছে, যার ফলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকায়। তারল্য সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সহায়তা দিলেও ব্যাংকগুলোর সার্বিক সূচক এখনো দুর্বল।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সংস্কার কাজ চলমান থাকলেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় সরকারকে আর্থিক সংকট মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আইএমএফ-এর সুপারিশ অনুযায়ী বিভিন্ন খাতে করের বোঝা বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি, বরং অনেকের সঞ্চয় শেষ হয়ে এখন তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির ফলে বাজারে টাকার প্রবাহ কমলেও মূল্যস্ফীতি এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় নামেনি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদী যে, চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরও এগিয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদী সুফল দৃশ্যমান হবে এবং অর্থনীতির দুষ্টচক্র ভেঙে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন পরিবেশ তৈরি হবে।