বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বর্তমানে এক অত্যন্ত জটিল ও সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে। গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল, তা এখন গভীর সংকটের সম্মুখীন।
আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হলেও গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দেশে এক পরিকল্পিত অস্থিতিশীলতা ও ‘মব সংস্কৃতি’ শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থিরতা কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার ঠিক আগমুহূর্তে এই ধরনের সহিংসতা তাঁর প্রত্যাবর্তন ও অবাধ নির্বাচনের পথকে রুদ্ধ করার একটি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তফসিল ঘোষণার পরদিনই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর যে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তা দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি মহড়া বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা এবং প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল কবীরের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় স্পষ্ট হয় যে, হাদির মৃত্যুকে আবেগি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোজাহিদুল ইসলাম এবং সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের মতো বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বাইরে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানি দিয়ে এই ‘ফার-রাইট’ শক্তিকে মাঠে নামানো হয়েছে যাতে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করা যায় এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ভণ্ডুল করা সম্ভব হয়।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে বাংলাদেশের রাজনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই শক্তিশালী নেতৃত্বের উপস্থিতি উগ্রপন্থী বা ছদ্ম-রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর অস্তিত্বের জন্য হুমকি। এই কারণে তাঁর ফিরতি পথ বাধাগ্রস্ত করতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের বিশেষ ন্যারেটিভকে সত্য প্রমাণ করতে বর্তমানে অরাজকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ২০ ডিসেম্বর ওসমান হাদির জানাজাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে একটি ‘বিপ্লবী সরকার’ গঠনের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মব কালচার দমনে তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের রোডম্যাপে অটল থাকার কোনো বিকল্প নেই।
রিপোর্টারের নাম 

























