ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (রাকসু), হল সংসদ এবং সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, কমিউনিটি পুলিশ এবং রেঞ্জার্স সদস্যরাও কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে সহযোগিতা করছেন।

রাকসু নির্বাচন কমিশন সূত্র অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৩৯.১ শতাংশ এবং পুরুষ ভোটার ৬০.৯ শতাংশ। রাকসুর ২৩টি পদে ৩০৫ জন, সিনেটে ৫টি ছাত্র প্রতিনিধি পদে ৫৮ জন এবং ১৭টি হল সংসদে ২৫৫টি পদে ৫৫৫ জন— সব মিলিয়ে মোট ৮৬০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৮ হাজার ৯০১ জন ভোটারের জন্য সমসংখ্যক ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে।

ভোটগ্রহণ পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। মোট ২১২ জন শিক্ষক নিযুক্ত আছেন, যার মধ্যে ১৭টি কেন্দ্রে ১৭ জন প্রিসাইডিং অফিসার এবং বাকিরা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি ৯১ জন কর্মকর্তা পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনের ফলাফল নির্ভুলভাবে প্রস্তুত করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। রাকসু নির্বাচন আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্যের প্রতীক। এটি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চা, নেতৃত্ব বিকাশ ও দায়িত্ববোধ গঠনের এক অসাধারণ সুযোগ এনে দিচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। এজন্য প্রতিটি ধাপে নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত রাখতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সব কার্যক্রম সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হবে।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: গভীর সংকটের মুখে কূটনৈতিক তৎপরতা

৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু

আপডেট সময় : ০৯:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (রাকসু), হল সংসদ এবং সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, কমিউনিটি পুলিশ এবং রেঞ্জার্স সদস্যরাও কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে সহযোগিতা করছেন।

রাকসু নির্বাচন কমিশন সূত্র অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৩৯.১ শতাংশ এবং পুরুষ ভোটার ৬০.৯ শতাংশ। রাকসুর ২৩টি পদে ৩০৫ জন, সিনেটে ৫টি ছাত্র প্রতিনিধি পদে ৫৮ জন এবং ১৭টি হল সংসদে ২৫৫টি পদে ৫৫৫ জন— সব মিলিয়ে মোট ৮৬০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৮ হাজার ৯০১ জন ভোটারের জন্য সমসংখ্যক ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে।

ভোটগ্রহণ পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। মোট ২১২ জন শিক্ষক নিযুক্ত আছেন, যার মধ্যে ১৭টি কেন্দ্রে ১৭ জন প্রিসাইডিং অফিসার এবং বাকিরা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি ৯১ জন কর্মকর্তা পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনের ফলাফল নির্ভুলভাবে প্রস্তুত করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। রাকসু নির্বাচন আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্যের প্রতীক। এটি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চা, নেতৃত্ব বিকাশ ও দায়িত্ববোধ গঠনের এক অসাধারণ সুযোগ এনে দিচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। এজন্য প্রতিটি ধাপে নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত রাখতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সব কার্যক্রম সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হবে।”