ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সুস্থ আছেন সু চি, ছেলের উদ্বেগের পর মিয়ানমার জান্তার দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী অং সান সু চির স্বাস্থ্য ভালো, এমন দাবি করেছে দেশটির সামরিক সরকার। তার ছেলে কিম অ্যারিস মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানানোর পর মঙ্গলবার এ কথা জানানো হলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার কিম অ্যারিস বলেছিলেন, মায়ের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কোনও তথ্য পাচ্ছেন না। তিনি আশঙ্কা করছেন, কিছু জানার আগেই তার মৃত্যু হতে পারে।

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমার ডিজিটাল নিউজএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অং সান সু চির স্বাস্থ্য ভালো আছে। সাবেক নেত্রীর প্রতি সম্মানসূচক সম্বোধন ব্যবহার করা হলেও বিবৃতিতে তার বর্তমান অবস্থান বা স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনও প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

এই বিবৃতির বিষয়ে কিম অ্যারিসের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে টোকিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বহুদিন ধরে তিনি তার মায়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। তার ধারণা, অং সান সু চিকে রাজধানী নেপিদোতে আটক রাখা হয়েছে।

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চিকে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর আটক করা হয়। ওই অভ্যুত্থানে তার নির্বাচিত বেসামরিক সরকার উৎখাত হয় এবং দেশটি গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। উসকানি, দুর্নীতি ও নির্বাচনি জালিয়াতিসহ একাধিক অভিযোগে তিনি বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এসব অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

অ্যারিসের প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচনের আগে সমালোচকদের শান্ত করতে সেনা সরকার অং সান সু চিকে মুক্তি দিতে পারে অথবা গৃহবন্দি অবস্থায় স্থানান্তর করতে পারে।

তবে সামরিক সরকার কিম অ্যারিসের বক্তব্যকে নির্বাচনি প্রক্রিয়া ব্যাহত করার অপচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ বানানো অভিযোগ, যা আসন্ন মুক্ত ও সুষ্ঠু বহুদলীয় সাধারণ নির্বাচন ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে সময়মতো ছড়ানো হয়েছে।

এটি হবে ২০২০ সালের পর মিয়ানমারের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনী অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করেছিল।

বর্তমানে মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল ও অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বিলুপ্ত রয়েছে। পাশাপাশি সেনা সরকারের বিরোধী আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন বর্জন করছে।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং: জনজীবনে চরম নাভিশ্বাস

সুস্থ আছেন সু চি, ছেলের উদ্বেগের পর মিয়ানমার জান্তার দাবি

আপডেট সময় : ১০:২৬:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী অং সান সু চির স্বাস্থ্য ভালো, এমন দাবি করেছে দেশটির সামরিক সরকার। তার ছেলে কিম অ্যারিস মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানানোর পর মঙ্গলবার এ কথা জানানো হলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার কিম অ্যারিস বলেছিলেন, মায়ের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কোনও তথ্য পাচ্ছেন না। তিনি আশঙ্কা করছেন, কিছু জানার আগেই তার মৃত্যু হতে পারে।

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমার ডিজিটাল নিউজএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অং সান সু চির স্বাস্থ্য ভালো আছে। সাবেক নেত্রীর প্রতি সম্মানসূচক সম্বোধন ব্যবহার করা হলেও বিবৃতিতে তার বর্তমান অবস্থান বা স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনও প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

এই বিবৃতির বিষয়ে কিম অ্যারিসের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে টোকিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বহুদিন ধরে তিনি তার মায়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। তার ধারণা, অং সান সু চিকে রাজধানী নেপিদোতে আটক রাখা হয়েছে।

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চিকে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর আটক করা হয়। ওই অভ্যুত্থানে তার নির্বাচিত বেসামরিক সরকার উৎখাত হয় এবং দেশটি গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। উসকানি, দুর্নীতি ও নির্বাচনি জালিয়াতিসহ একাধিক অভিযোগে তিনি বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এসব অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

অ্যারিসের প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচনের আগে সমালোচকদের শান্ত করতে সেনা সরকার অং সান সু চিকে মুক্তি দিতে পারে অথবা গৃহবন্দি অবস্থায় স্থানান্তর করতে পারে।

তবে সামরিক সরকার কিম অ্যারিসের বক্তব্যকে নির্বাচনি প্রক্রিয়া ব্যাহত করার অপচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ বানানো অভিযোগ, যা আসন্ন মুক্ত ও সুষ্ঠু বহুদলীয় সাধারণ নির্বাচন ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে সময়মতো ছড়ানো হয়েছে।

এটি হবে ২০২০ সালের পর মিয়ানমারের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনী অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করেছিল।

বর্তমানে মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল ও অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বিলুপ্ত রয়েছে। পাশাপাশি সেনা সরকারের বিরোধী আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন বর্জন করছে।