রাশিয়ার হামলা ও কথিত যুদ্ধাপরাধে ইউক্রেনের বিপুল ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক একটি দাবি কমিশন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপ। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ–এ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ ইউরোপ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা জড়ো হয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
নেদারল্যান্ডস ও ইউরোপ কাউন্সিলের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক দিনের এই সম্মেলনে অংশ নেবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাসসহ বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে শুরু হওয়া কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে যুদ্ধ চলছে।
নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল ক্ষতিপূরণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জবাবদিহি ছাড়া কোনও সংঘাতের পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। এই জবাবদিহির একটি অংশ হলো সংঘটিত ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া। আজ আমরা যে দাবি কমিশন গঠনের পথে এগোলাম এবং এ বিষয়ে একটি চুক্তিতে সই করছি, এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এই কমিশন ক্ষতিপূরণের দাবি যাচাই ও অনুমোদন করবে। তবে অনুমোদিত ক্ষতিপূরণের অর্থ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রাথমিক আলোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের জব্দ করা রুশ সম্পদ ব্যবহার এবং সদস্য দেশগুলোর অবদান যুক্ত করার বিষয়টি উঠে এসেছে।
ডেভিড ভ্যান উইল বলেন, লক্ষ্য হলো এমন দাবি যাচাই করা, যার ক্ষতিপূরণ শেষ পর্যন্ত রাশিয়াকেই দিতে হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এই কমিশন ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনও নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।
দুই বছর আগে গঠিত রেজিস্টার অব ড্যামেজ এই কমিশনের অংশ হবে। ইতোমধ্যে ৮০ হাজারের বেশি দাবি পেয়েছে। ইউক্রেনের ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো বিভিন্ন শ্রেণিতে এসব দাবি জমা দিয়েছে।
সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, এখান থেকেই শান্তির প্রকৃত পথ শুরু হয়। শুধু রাশিয়াকে একটি চুক্তিতে বাধ্য করা বা হত্যাকাণ্ড থামানো যথেষ্ট নয়। আমাদের রাশিয়াকে মেনে নিতে বাধ্য করতে হবে যে, পৃথিবীতে নিয়ম আছে।
এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ক্রেমলিন ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ও বাজেট চাহিদা মেটাতে জব্দ করা রুশ সম্পদ ব্যবহারের ইউরোপীয় প্রস্তাবকে তারা অবৈধ বলে উল্লেখ করেছে এবং পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















