ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির কার্যকারিতা হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। তাদের দাবি, চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের অগ্রগতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

এক ভিডিও বার্তায় হামাসের গাজা প্রধান খলিল আল-হাইয়া বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা এবং সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড চুক্তির অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে। আগের দিন গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হামাসের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রায়েদ সাদ নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

খলিল আল-হাইয়া বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির ধারাবাহিক লঙ্ঘন এবং সাদসহ অন্যদের লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড এই চুক্তির কার্যকারিতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে বাধ্য করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ রাখা, জীবিত জিম্মি ও কারাবন্দিদের এবং নিহতদের মরদেহ বিনিময় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল। এসব শর্ত পূরণ হলে দ্বিতীয় ধাপ শুরু হওয়ার কথা। এই ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা ছিল।

তবে গাজা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল গাজায় প্রতিদিন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৮০০টি হামলায় প্রায় ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা অবাধে প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার আগে শেষ জিম্মি র‌্যান গিভিলির মরদেহ ফেরত দেওয়ার শর্ত রয়েছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। রায়েদ সাদকে হত্যার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাদ ছিলেন গাজায় হামাসের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন ও অস্ত্র সংগ্রহের প্রধান ব্যক্তি।

নেতানিয়াহু বলেন, সাদ অস্ত্র পুনরায় মজুত ও পাচারের কাজে যুক্ত ছিলেন, যা হামাসের পক্ষ থেকে ট্রাম্প শান্তি পরিকল্পনার নীতিমালার সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। একই সঙ্গে তিনি গিভিলির মরদেহ ফেরাতে ইসরায়েলের চলমান প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা প্রথম ধাপের শেষের দিকে চলে এসেছি। আমরা র‌্যান গিভিলিকে ফেরত আনতে চাই এবং সে লক্ষ্যে কাজ করছি।

এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েনের খবরও প্রকাশ পেয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রধান পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে ইসরায়েল বলছে, গিভিলির মরদেহ ফেরত না আসা পর্যন্ত তারা পরবর্তী ধাপে যাবে না।

মার্কিন চাপের প্রসঙ্গ টেনে নেতানিয়াহু বলেন, এ বিষয়ে ইসরায়েল নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলবে। তিনি বলেন, আমাদের নীতি কঠোরই থাকবে এবং তা স্বাধীন। আমরা সিদ্ধান্ত নেব কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, কী প্রতিক্রিয়া জানানো হবে এবং কীভাবে ইসরায়েল ও আমাদের সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং: জনজীবনে চরম নাভিশ্বাস

গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ০৯:২৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির কার্যকারিতা হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। তাদের দাবি, চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের অগ্রগতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

এক ভিডিও বার্তায় হামাসের গাজা প্রধান খলিল আল-হাইয়া বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা এবং সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড চুক্তির অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে। আগের দিন গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হামাসের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রায়েদ সাদ নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

খলিল আল-হাইয়া বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির ধারাবাহিক লঙ্ঘন এবং সাদসহ অন্যদের লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড এই চুক্তির কার্যকারিতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে বাধ্য করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ রাখা, জীবিত জিম্মি ও কারাবন্দিদের এবং নিহতদের মরদেহ বিনিময় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল। এসব শর্ত পূরণ হলে দ্বিতীয় ধাপ শুরু হওয়ার কথা। এই ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা ছিল।

তবে গাজা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল গাজায় প্রতিদিন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৮০০টি হামলায় প্রায় ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা অবাধে প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার আগে শেষ জিম্মি র‌্যান গিভিলির মরদেহ ফেরত দেওয়ার শর্ত রয়েছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। রায়েদ সাদকে হত্যার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাদ ছিলেন গাজায় হামাসের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন ও অস্ত্র সংগ্রহের প্রধান ব্যক্তি।

নেতানিয়াহু বলেন, সাদ অস্ত্র পুনরায় মজুত ও পাচারের কাজে যুক্ত ছিলেন, যা হামাসের পক্ষ থেকে ট্রাম্প শান্তি পরিকল্পনার নীতিমালার সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। একই সঙ্গে তিনি গিভিলির মরদেহ ফেরাতে ইসরায়েলের চলমান প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা প্রথম ধাপের শেষের দিকে চলে এসেছি। আমরা র‌্যান গিভিলিকে ফেরত আনতে চাই এবং সে লক্ষ্যে কাজ করছি।

এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েনের খবরও প্রকাশ পেয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রধান পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে ইসরায়েল বলছে, গিভিলির মরদেহ ফেরত না আসা পর্যন্ত তারা পরবর্তী ধাপে যাবে না।

মার্কিন চাপের প্রসঙ্গ টেনে নেতানিয়াহু বলেন, এ বিষয়ে ইসরায়েল নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলবে। তিনি বলেন, আমাদের নীতি কঠোরই থাকবে এবং তা স্বাধীন। আমরা সিদ্ধান্ত নেব কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, কী প্রতিক্রিয়া জানানো হবে এবং কীভাবে ইসরায়েল ও আমাদের সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।