অস্ত্র আইন আরও কঠোর করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সিডনির বন্ডাই বিচে একটি ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাবা-ছেলের বন্দুক হামলায় ১৫ জন নিহতের পরই এমন পরিকল্পনার কথা জানানো হলে। এদিকে ঘটনার পর সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দেশজুড়ে নিহতদের স্মরণে শোক পালন শুরু করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, হামলাকারী বাবা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ জনে। তার ২৪ বছর বয়সি ছেলে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, বাবা ২০১৫ সাল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী ছিলেন এবং তার নামে নিবন্ধিত ছয়টি অস্ত্র ছিল। তবে আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা সম্ভবত একটি বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল এবং একটি শটগান ব্যবহার করছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ জানায়, হামলাকারীদের গাড়ি থেকে দুটি ইসলামিক স্টেট (আইএস) পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও প্রতিবেদনে কোনও নির্দিষ্ট সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর আইনগুলোর মধ্যে থাকা অস্ট্রেলিয়ার অস্ত্র আইন আদৌ বর্তমান বাস্তবতায় যথেষ্ট কি না।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, তিনি মন্ত্রিসভাকে অস্ত্র লাইসেন্সের আওতায় অস্ত্রের সংখ্যা সীমিত করা এবং লাইসেন্সের মেয়াদ নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলবেন।
তিনি বলেন, মানুষের পরিস্থিতি বদলাতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেউ উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়তে পারে। লাইসেন্স চিরস্থায়ী হওয়া উচিত নয়।
হামলার সময় এক ব্যক্তিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারীকে নিরস্ত্র করার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ব্যক্তিকে নায়ক হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ৭নিউজ অস্ট্রেলিয়া জানায়, তার নাম আহমেদ আল আহমেদ। তার এক আত্মীয় জানান, ৪৩ বছর বয়সি এই ফল বিক্রেতা দোকান মালিককে দুবার গুলি করা হয় এবং তার অস্ত্রোপচার হয়েছে।
তার চিকিৎসার জন্য খোলা তহবিলে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ৫ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি (প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার মার্কিন ডলার) সংগ্রহ হয়েছে।
এদিকে বন্ডি প্যাভিলিয়নে ফুল, ইসরায়েলি ও অস্ট্রেলিয়ান পতাকা দিয়ে একটি অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে এবং অনলাইনে শোকবার্তা জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শোকাহতরা ফুল অর্পণ করতে এলে সেখানে পুলিশ ও কানে ইয়ারপিস পরা বেসরকারি ইহুদি নিরাপত্তারক্ষীদের অবস্থান করতে দেখা যায়।
রিপোর্টারের নাম 























