ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ওসমান হাদিকে গুলি: মোটরসাইকেলের মালিক ৩ দিনের রিমান্ডে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মো. আব্দুল হান্নানকে তিন   দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক সামিম হাসানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আজ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহজনকভাবে আব্দুল হান্নানকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরে আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে বলেন, ওসমান হাদিকে হত্যা চেষ্টায় যে মোটরসাইকেল ব্যবহার কারা হয়েছে সেটা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের মডেল তদন্ত কর্মকর্তা চিহ্নিত করেছেন। যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। হত্যাচেষ্টা রহস্য উদঘাটনের জন্য হান্নানের রিমান্ড প্রয়োজন। কীভাবে মোটরসাইকেল গেলো সেখানে, যেহেতু মালিক চালায়নি তখন। তবুও তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। এ ঘটনা নিয়ে সারা দেশ উদ্বিগ্ন, সবাই তাকিয়ে আছেন, সামনে নির্বাচন। হাদি একজন সৎ মানুষ। এ হত্যা চেষ্টার রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামির সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

মোটরসাইকেল মালিক হান্নান শুনানিতে আদালতে বলেন, আমি এ হুন্ডাটি মিরপুর মাজার রোড থেকে কিনেছি। পরে অসুস্থ ছিলাম বলে সবাই বাইক চালাতে নিষেধ করায় তা বাসায় পড়েছিল। পরে হুন্ডাটি একটি শোরুমে বিক্রি করি এবং নাম চেঞ্জ করে দেবো বলি। তখন থেকে দু মাস পরে চেঞ্জ করে দেওয়ার কথা। আমাকে গ্রেফতারের সময় আমি পুলিশকে বলছি, ভালো করে তদন্ত করেন। প্রয়োজনে ওই শোরুমে আমাকে নিয়ে যান, তাহলে সব সত্যি বের হবে।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, মোটরসাইকেলের নম্বর পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এর মালিক হান্নান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে বিভিন্ন সময় মোটরসাইকেল ব্যবহার হয়েছে বলে জানা গেছে। হান্নান গ্রেফতারের পর থেকে এ বিষয় এলোমেলো তথ্য দিয়েছে। সাবেক পতিত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের নির্দেশে এরা একটি চক্র আছে। এ জন্য এরা টার্গেট করে আলাদা আলাদা আক্রমণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে হাদিকে আক্রমণ করে।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হান্নানকে র‍্যাব-২ আটক করে পল্টন মডেল থানায় সোপর্দ করে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তিনি বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ওসমান হাদি ও তার সঙ্গের ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাওয়ার সময় অজ্ঞাত দুই সন্ত্রাসী একটি মোটরসাইকেলে এসে ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে।

গুলিতে হাদি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে র‍্যাব-২ জানতে পারে, সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর-ঢাকা মেট্রো ল-৫৪-৬৩৭৫। পরে র‍্যাব-২ বিআরটিএ কর্তৃক মালিকানা যাচাই করে মোটরসাইকেলের মালিক হিসেবে হান্নানকে চিহ্নিত করে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন। এই আসামি উল্লেখিত ঘটনায় জড়িত থাকায় সন্দেহে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যাচাই-বাছাই অব্যাহত আছে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে মোটরসাইকেলের বিষয়ে কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি। এ জন্য ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার ও পলাতক আসামিদের ঠিকানা, অবস্থান জানা, অবৈধ অস্ত্রের উৎস জানার জন্য গ্রেফতার আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

এর আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুর আব্দুল হান্নানকে আটক করে র‍্যাব-২।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওসমান হাদিকে গুলি: মোটরসাইকেলের মালিক ৩ দিনের রিমান্ডে

আপডেট সময় : ০৭:০৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মো. আব্দুল হান্নানকে তিন   দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক সামিম হাসানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আজ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহজনকভাবে আব্দুল হান্নানকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরে আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে বলেন, ওসমান হাদিকে হত্যা চেষ্টায় যে মোটরসাইকেল ব্যবহার কারা হয়েছে সেটা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের মডেল তদন্ত কর্মকর্তা চিহ্নিত করেছেন। যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। হত্যাচেষ্টা রহস্য উদঘাটনের জন্য হান্নানের রিমান্ড প্রয়োজন। কীভাবে মোটরসাইকেল গেলো সেখানে, যেহেতু মালিক চালায়নি তখন। তবুও তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। এ ঘটনা নিয়ে সারা দেশ উদ্বিগ্ন, সবাই তাকিয়ে আছেন, সামনে নির্বাচন। হাদি একজন সৎ মানুষ। এ হত্যা চেষ্টার রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামির সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

মোটরসাইকেল মালিক হান্নান শুনানিতে আদালতে বলেন, আমি এ হুন্ডাটি মিরপুর মাজার রোড থেকে কিনেছি। পরে অসুস্থ ছিলাম বলে সবাই বাইক চালাতে নিষেধ করায় তা বাসায় পড়েছিল। পরে হুন্ডাটি একটি শোরুমে বিক্রি করি এবং নাম চেঞ্জ করে দেবো বলি। তখন থেকে দু মাস পরে চেঞ্জ করে দেওয়ার কথা। আমাকে গ্রেফতারের সময় আমি পুলিশকে বলছি, ভালো করে তদন্ত করেন। প্রয়োজনে ওই শোরুমে আমাকে নিয়ে যান, তাহলে সব সত্যি বের হবে।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, মোটরসাইকেলের নম্বর পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এর মালিক হান্নান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে বিভিন্ন সময় মোটরসাইকেল ব্যবহার হয়েছে বলে জানা গেছে। হান্নান গ্রেফতারের পর থেকে এ বিষয় এলোমেলো তথ্য দিয়েছে। সাবেক পতিত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের নির্দেশে এরা একটি চক্র আছে। এ জন্য এরা টার্গেট করে আলাদা আলাদা আক্রমণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে হাদিকে আক্রমণ করে।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হান্নানকে র‍্যাব-২ আটক করে পল্টন মডেল থানায় সোপর্দ করে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তিনি বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ওসমান হাদি ও তার সঙ্গের ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাওয়ার সময় অজ্ঞাত দুই সন্ত্রাসী একটি মোটরসাইকেলে এসে ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে।

গুলিতে হাদি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে র‍্যাব-২ জানতে পারে, সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর-ঢাকা মেট্রো ল-৫৪-৬৩৭৫। পরে র‍্যাব-২ বিআরটিএ কর্তৃক মালিকানা যাচাই করে মোটরসাইকেলের মালিক হিসেবে হান্নানকে চিহ্নিত করে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন। এই আসামি উল্লেখিত ঘটনায় জড়িত থাকায় সন্দেহে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যাচাই-বাছাই অব্যাহত আছে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে মোটরসাইকেলের বিষয়ে কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি। এ জন্য ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার ও পলাতক আসামিদের ঠিকানা, অবস্থান জানা, অবৈধ অস্ত্রের উৎস জানার জন্য গ্রেফতার আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

এর আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুর আব্দুল হান্নানকে আটক করে র‍্যাব-২।