গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শহীদ মিনারে জুতা পায়ে নির্বাচনি সমাবেশ করার অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. মারুফ শেখ ও ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
রবিবার দুপুরে কোটালীপাড়া পৌর মার্কেট এলাকা থেকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মারুফ শেখের নেতৃত্বে একটি নির্বাচনি পদযাত্রা বের হয়। শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পদযাত্রাটি শেষ হয় উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ মিলিত হন প্রার্থীসহ নেতাকর্মীরা। এ সময় নেতাকর্মীরা জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠে পড়েন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। শহীদ মিনারে এমন ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ কমান্ডের আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এখন বিজয়ের মাস চলছে। এমন মাসে শহীদ মিনারে জুতা পায়ে ওঠা সম্পূর্ণ আপত্তিকর বিষয়। যেখানে আমরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই, সেখানে জুতা পায়ে উঠে তারা শহীদদের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছেন। এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন বলেন, ‘বিজয়ের মাসে জুতা পায়ে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ও শহীদ মিনারে যারা উঠতে পারে, তারা স্বাধীনতাকে কখনোই মেনে নেয়নি, এখনও মেনে নিতে পারে না। তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের ও ১৯৫২ সালের ভাষাশহীদদের অবমাননা করেছে।’
এ বিষয়ে জানতে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী মো. মারুফ শেখের মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার সভাপতি তসলিম হুসাইন সিকদার বলেন, ‘শুধু বিজয়ের মাস নয়, দেশের জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের প্রতিটি দিবসেই সম্মান জানানো উচিত। আমার মনে হয়, নেতাকর্মীরা বিষয়টি বুঝতে না পেরেই এমনটি করে ফেলেছেন।’
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, ‘ভিডিওটি আমিও দেখেছি। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা না বলে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না।’
রিপোর্টারের নাম 






















