সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দায়িত্বে অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মামুন উর রশিদ মামুনকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
রবিবার (১২ অক্টোবর) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দায়িত্বে অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মোহাম্মদ মামুন উর রশিদ মামুনকে সাংগঠনিক পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হলো।”
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল নেতাকর্মীকে মামুনের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অবশ্য, তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে ছাত্রদলের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই বহিষ্কারের পেছনে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন’ একটি প্রধান কারণ হতে পারে। সূত্রটি জানিয়েছে, “আওয়ামী লীগ শাসনামলে জেল-জুলুম ও রিমান্ডে প্রচণ্ড নির্যাতনের মুখেও মামুন ছাত্রদলের জন্য লড়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি তার কিছু ত্যাগী ছোট ভাইকে চাকসুতে স্বতন্ত্র পদে সমর্থন দিয়েছেন, যার কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।” সূত্রটি আরও জানায়, ৫ আগস্টের পর ছাত্রদলে যুক্ত হওয়া কর্মীরা প্যানেলে জায়গা পেলেও ত্যাগীরা বঞ্চিত হয়েছেন। তাই নিজ দায়বদ্ধতা থেকে কিছু কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মামুন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চবি শাখা ছাত্রদলের ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মহসিনকে সভাপতি ও আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। মোহাম্মদ মামুন উর রশিদ মামুনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, মো. ইয়াসিনকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়কে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
রিপোর্টারের নাম 
























