উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যেতে বাংলাদেশের পথে রয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।
এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকালে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটে রওনা দেন তিনি। তিনি কখন আসছেন সে অপেক্ষায় রয়েছেন নেতাকর্মীরা। কারণ তার আসার পরপরই বিএনপি চেয়ারপারসনকে লন্ডনে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার আগেই এভারকেয়ারে পৌঁছবেন তিনি।
এরপরই আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলে দুপুর নাগাদ লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়তে পারে খালেদা জিয়াকে বহনকারী কাতার সরকারের দেওয়া বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স।
তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে থাকবেন লন্ডন থেকে আসা বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও হাসপাতালে সঙ্গে থাকা ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি হওয়ার পরপরই খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে ছুটে যান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। দিন রাত বাইরে অপেক্ষা করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে সারা রাত জেগে অপেক্ষা করছেন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
খালেদা জিয়াকে নিয়ে দলের বাইরেও সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক ধরনের উদ্বিগ্নতা রয়েছে। বেশিরভাগ মানুষ সার্বক্ষণিক তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর রাখছেন। বিশেষ করে চিকিৎসকদের ব্রিফিং জানতে সবার নজর ছিল এভারকেয়ারের দিকে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকেই দল ও মেডিক্যাল বোর্ডের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। তাকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা। তাই বৃহস্পতিবার রাত থেকে এভারকেয়ারের সামনে ভিড় বাড়ছে।
নেতাকর্মীরা জানান, দলীয় চেয়ারপারসনকে বিদায় না জানিয়ে তারা সেখান থেকে সরবেন না। তারা বলেন, আমরা তাকে সাময়িক বিদায় দিচ্ছি। আশা করি তিনি আবারও প্রাণবন্ত হয়ে ফিরবেন।
বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে আরও যারা যাবেন
দলীয় সূত্র জানিয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বাইরেও যাচ্ছেন চিকিৎসক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
তারা হলেন– চিকিৎসক আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী, ডা. মো. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, ডা. নূর উদ্দিন আহমদ, ডা. মো. জাফর ইকবাল, ডা. মোহাম্মদ আল মামুন, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) হাসান শাহরিয়ার ইকবাল, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সৈয়দ সামিন মাহফুজ, তারেক রহমানের সহকারী মো. আবদুল হাই মল্লিক, সহকারী ব্যক্তিগত সচিব মো. মাসুদুর রহমান, গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম ও গৃহকর্মী রূপা শিকদার।
এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে লন্ডন নেওয়ার প্রস্তুতি ঘিরে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা। হাসপাতালে রোগীর বাইরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে অবস্থানকারী নেতাকর্মীদেরও নিরাপদ দূরত্বে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। সাংবাদিক ছাড়া প্রধান ফটকে কাউকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
এর আগে গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডে যুক্ত হন লন্ডন ও চীন থেকে আসা চিকিৎসক দল।
রিপোর্টারের নাম 

























