মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বিগত সরকারের আমলে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ: শিবালয়ে তদন্তের দাবি

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত হয়েছিল বলে জানা গেছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সূত্রে এসব অভিযোগ দীর্ঘকাল ধরে আলোচনায় রয়েছে।

জানা যায়, তৎকালীন সময়ে একটি সার্কুলার জারি করে গত ২৯ জুলাই শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এই সার্কুলার পেয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের ৫৫১ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬৩ জন সুপারভাইজার পদের জন্য মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল সেদিনই ঘোষণার কথা থাকলেও, বারো দিন পর অর্থাৎ ১০ আগস্ট ফলাফল জারি করা হয়েছিল।

চূড়ান্ত মনোনীত ৬৬ জন, অপেক্ষমাণ ৭৩ জন এবং ৭ জনকে রিজার্ভ রেখে মোট ১৪৬ জনকে উত্তীর্ণ করানো হয়। ফলাফলে দেখা গেছে, তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি, সাংস্কৃতিক সম্পাদকসহ সক্রিয় সদস্যদের সন্তানদের নাম উত্তীর্ণদের তালিকায় রয়েছে। এমনকি, বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শিবালয় থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতির মৃত্যুতে শেখ হাসিনা নিজে যার বাড়িতে এসেছিলেন, সেই বাড়ির সন্তানদের নামও উত্তীর্ণ সুপারভাইজারের তালিকায় দেখা গেছে।

শিবালয় উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চূড়ান্ত মনোনীত ৬৬ জন তথ্য সংগ্রহকারীর মধ্যে ১৪ জন, ৭৩ জন অপেক্ষমাণ তথ্য সংগ্রহকারী তালিকার মধ্যে ১৭ জন এবং রিজার্ভ ৭ জনের মধ্যে ৩ জনই ছিলেন সাবেক ক্ষমতাসীন দলের পরিবারের সক্রিয় নেতা-কর্মী ও সদস্যদের সন্তান। এছাড়া, উত্তীর্ণ ১৩ জন সুপারভাইজারের মধ্যে ৩ জনও ছিলেন সাবেক ক্ষমতাসীন দলের পরিবারের সক্রিয় সদস্যের সন্তান। আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তথ্য সংগ্রহকারী পদে উথলী ইউনিয়নের এক গৃহবধূকে শিবালয় ইউনিয়নে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।

এসব বিষয়ে তৎকালীন ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কমিটির সদস্য সচিব জয় কৃষ্ণ সরকার তখন বলেছিলেন, তিনি শিবালয় উপজেলায় নতুন যোগদান করেছেন এবং এই বিষয়ে তার তেমন কোনো ধারণা নেই। একই বিষয়ে কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রানী কর্মকার তখন বলেছিলেন, যাচাই-বাছাই করে মেধা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান ‘অপরাজেয় শক্তি’ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি

বিগত সরকারের আমলে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ: শিবালয়ে তদন্তের দাবি

আপডেট সময় : ০৪:২১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত হয়েছিল বলে জানা গেছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সূত্রে এসব অভিযোগ দীর্ঘকাল ধরে আলোচনায় রয়েছে।

জানা যায়, তৎকালীন সময়ে একটি সার্কুলার জারি করে গত ২৯ জুলাই শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এই সার্কুলার পেয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের ৫৫১ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬৩ জন সুপারভাইজার পদের জন্য মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল সেদিনই ঘোষণার কথা থাকলেও, বারো দিন পর অর্থাৎ ১০ আগস্ট ফলাফল জারি করা হয়েছিল।

চূড়ান্ত মনোনীত ৬৬ জন, অপেক্ষমাণ ৭৩ জন এবং ৭ জনকে রিজার্ভ রেখে মোট ১৪৬ জনকে উত্তীর্ণ করানো হয়। ফলাফলে দেখা গেছে, তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি, সাংস্কৃতিক সম্পাদকসহ সক্রিয় সদস্যদের সন্তানদের নাম উত্তীর্ণদের তালিকায় রয়েছে। এমনকি, বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শিবালয় থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতির মৃত্যুতে শেখ হাসিনা নিজে যার বাড়িতে এসেছিলেন, সেই বাড়ির সন্তানদের নামও উত্তীর্ণ সুপারভাইজারের তালিকায় দেখা গেছে।

শিবালয় উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চূড়ান্ত মনোনীত ৬৬ জন তথ্য সংগ্রহকারীর মধ্যে ১৪ জন, ৭৩ জন অপেক্ষমাণ তথ্য সংগ্রহকারী তালিকার মধ্যে ১৭ জন এবং রিজার্ভ ৭ জনের মধ্যে ৩ জনই ছিলেন সাবেক ক্ষমতাসীন দলের পরিবারের সক্রিয় নেতা-কর্মী ও সদস্যদের সন্তান। এছাড়া, উত্তীর্ণ ১৩ জন সুপারভাইজারের মধ্যে ৩ জনও ছিলেন সাবেক ক্ষমতাসীন দলের পরিবারের সক্রিয় সদস্যের সন্তান। আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তথ্য সংগ্রহকারী পদে উথলী ইউনিয়নের এক গৃহবধূকে শিবালয় ইউনিয়নে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।

এসব বিষয়ে তৎকালীন ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কমিটির সদস্য সচিব জয় কৃষ্ণ সরকার তখন বলেছিলেন, তিনি শিবালয় উপজেলায় নতুন যোগদান করেছেন এবং এই বিষয়ে তার তেমন কোনো ধারণা নেই। একই বিষয়ে কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রানী কর্মকার তখন বলেছিলেন, যাচাই-বাছাই করে মেধা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।