মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নে স্থবিরতা: ‘নগর সরকার’ ব্যবস্থার দাবিতে জোরদার হচ্ছে কণ্ঠ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের চরম সমন্বয়হীনতা, উন্নয়নকাজের পুনরাবৃত্তি ও নাগরিক ভোগান্তি নিরসনে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ‘নগর সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। অন্তত ২৫টি সরকারি সংস্থার পৃথক সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়হীন কার্যক্রমের কারণে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ৭০ লাখ অধিবাসী মেগা প্রকল্পগুলোর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ, কর্ণফুলী গ্যাস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা পৃথক সিদ্ধান্তে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অথচ এই সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে তাদের উন্নয়ন কাজে চরম ভোগান্তির শিকার হন নগরবাসী।

নগরবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামকে একটি কার্যকর, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ঢাকার ওপর একক নির্ভরতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে মেয়রের নেতৃত্বে নগরীর সব সেবা সংস্থাকে একই কাঠামোর আওতায় এনে পূর্ণাঙ্গ ‘নগর সরকার’ গঠনের বিকল্প নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায়ই চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি লেগেই থাকে। এতে নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও ক্রমশ বাড়ছে। চসিকের মেরামত করা সড়ক এক সপ্তাহের মধ্যেই আবার খুঁড়ে ফেলছে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও বিদ্যুৎ বিভাগ। এছাড়া বন্দরের অতিরিক্ত যানবাহনের চাপেও অধিকাংশ সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে প্রতি বছর রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ কেবল সড়ক মেরামতেই ব্যয় হচ্ছে। সীমিত জনবল নিয়ে অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়নেও হিমশিম খেতে হচ্ছে সিটি করপোরেশনকে।

এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে চিঠি চালাচালি বাড়ছে, তৈরি হচ্ছে দূরত্ব ও সমন্বয়হীনতা। পাশাপাশি মেয়রের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পগুলোর অনুমোদনও দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে। নগরের সেবা কার্যক্রম ফেলে রেখে দিনের পর দিন রাজধানীতে গিয়ে ফাইল নিয়ে বসে থাকতে হয় সংশ্লিষ্টদের।

সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, নগর সরকার প্রতিষ্ঠা না হলে বর্তমানে প্রস্তুতাধীন সিডিএর মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নও কঠিন হবে। আর এর সবকিছুর চূড়ান্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। উল্লেখ্য, সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদে নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি প্রশাসনিক ইউনিটের স্থানীয় শাসনের ভার অর্পণের কথা বলা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বহুমুখী প্রতিভার অনন্য দৃষ্টান্ত: চাকরি-গবেষণা সামলেও মাস্টার্সে পূর্ণ সিজিপিএ অর্জন সৈয়দ ফাতেহ উদ্দিনের

চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নে স্থবিরতা: ‘নগর সরকার’ ব্যবস্থার দাবিতে জোরদার হচ্ছে কণ্ঠ

আপডেট সময় : ১০:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের চরম সমন্বয়হীনতা, উন্নয়নকাজের পুনরাবৃত্তি ও নাগরিক ভোগান্তি নিরসনে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ‘নগর সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। অন্তত ২৫টি সরকারি সংস্থার পৃথক সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়হীন কার্যক্রমের কারণে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ৭০ লাখ অধিবাসী মেগা প্রকল্পগুলোর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ, কর্ণফুলী গ্যাস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা পৃথক সিদ্ধান্তে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অথচ এই সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে তাদের উন্নয়ন কাজে চরম ভোগান্তির শিকার হন নগরবাসী।

নগরবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামকে একটি কার্যকর, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ঢাকার ওপর একক নির্ভরতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে মেয়রের নেতৃত্বে নগরীর সব সেবা সংস্থাকে একই কাঠামোর আওতায় এনে পূর্ণাঙ্গ ‘নগর সরকার’ গঠনের বিকল্প নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায়ই চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি লেগেই থাকে। এতে নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও ক্রমশ বাড়ছে। চসিকের মেরামত করা সড়ক এক সপ্তাহের মধ্যেই আবার খুঁড়ে ফেলছে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও বিদ্যুৎ বিভাগ। এছাড়া বন্দরের অতিরিক্ত যানবাহনের চাপেও অধিকাংশ সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে প্রতি বছর রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ কেবল সড়ক মেরামতেই ব্যয় হচ্ছে। সীমিত জনবল নিয়ে অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়নেও হিমশিম খেতে হচ্ছে সিটি করপোরেশনকে।

এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে চিঠি চালাচালি বাড়ছে, তৈরি হচ্ছে দূরত্ব ও সমন্বয়হীনতা। পাশাপাশি মেয়রের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পগুলোর অনুমোদনও দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে। নগরের সেবা কার্যক্রম ফেলে রেখে দিনের পর দিন রাজধানীতে গিয়ে ফাইল নিয়ে বসে থাকতে হয় সংশ্লিষ্টদের।

সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, নগর সরকার প্রতিষ্ঠা না হলে বর্তমানে প্রস্তুতাধীন সিডিএর মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নও কঠিন হবে। আর এর সবকিছুর চূড়ান্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। উল্লেখ্য, সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদে নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি প্রশাসনিক ইউনিটের স্থানীয় শাসনের ভার অর্পণের কথা বলা হয়েছে।