মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি এনসিপির

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্প্রসারিত ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ বাতিলের সিদ্ধান্তকে জনস্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির অভিযোগ, আমলাতান্ত্রিক ও আইনি জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা মূলত বহুজাতিক ও দেশীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষা করবে। অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।

সোমবার (৯ আগস্ট, ২০২৬) এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন এক যৌথ বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় ১১৭টি ওষুধ ছিল। এর প্রায় ৪০ শতাংশ বাস্তবে চিকিৎসায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল বলে দাবি করে এনসিপি। সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে তালিকাটি সম্প্রসারণ করে ২৯৫টি ওষুধে উন্নীত করে এবং এসব ওষুধের ওপর কঠোর মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করে। দলটির দাবি, এই ২৯৫টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার চাহিদা পূরণে সক্ষম ছিল।

এনসিপি আরও জানায়, আগের নীতি অনুযায়ী প্রতিটি ওষুধ কোম্পানির মোট বার্ষিক বিক্রয়ের অন্তত ২৫ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক ছিল। এই শর্ত না মানলে নতুন ওষুধের অনুমোদন বন্ধের বিধানও কার্যকর ছিল।

দলটির অভিযোগ, বাণিজ্যিক জেনেরিক ওষুধে বেশি মুনাফার সুযোগ বাড়াতে কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করতে চাইছে। বর্তমান সরকার ওই কোম্পানিগুলোর স্বার্থে সম্প্রসারিত তালিকা বাতিল করে তা আবার ১১৭টিতে নামিয়ে এনেছে এবং ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল করেছে বলে দাবি এনসিপির।

এনসিপি বলেছে, মুক্তবাজারের দোহাই দিয়ে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ তুলে দিলে সাধারণ মানুষকে বাড়তি দামে ওষুধ কিনতে হবে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যানসার, অ্যাজমা ও কিডনি রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীরা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের বড় অংশ সাধারণ মানুষকে নিজস্ব অর্থে বহন করতে হয়। এর মধ্যে ওষুধের পেছনে ব্যয়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। ফলে ওষুধের দাম বেড়ে গেলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর চিকিৎসাব্যয় আরও বেড়ে যাবে, যা তাদের জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি এনসিপির

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্প্রসারিত ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ বাতিলের সিদ্ধান্তকে জনস্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির অভিযোগ, আমলাতান্ত্রিক ও আইনি জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা মূলত বহুজাতিক ও দেশীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষা করবে। অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।

সোমবার (৯ আগস্ট, ২০২৬) এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন এক যৌথ বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় ১১৭টি ওষুধ ছিল। এর প্রায় ৪০ শতাংশ বাস্তবে চিকিৎসায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল বলে দাবি করে এনসিপি। সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে তালিকাটি সম্প্রসারণ করে ২৯৫টি ওষুধে উন্নীত করে এবং এসব ওষুধের ওপর কঠোর মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করে। দলটির দাবি, এই ২৯৫টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার চাহিদা পূরণে সক্ষম ছিল।

এনসিপি আরও জানায়, আগের নীতি অনুযায়ী প্রতিটি ওষুধ কোম্পানির মোট বার্ষিক বিক্রয়ের অন্তত ২৫ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক ছিল। এই শর্ত না মানলে নতুন ওষুধের অনুমোদন বন্ধের বিধানও কার্যকর ছিল।

দলটির অভিযোগ, বাণিজ্যিক জেনেরিক ওষুধে বেশি মুনাফার সুযোগ বাড়াতে কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করতে চাইছে। বর্তমান সরকার ওই কোম্পানিগুলোর স্বার্থে সম্প্রসারিত তালিকা বাতিল করে তা আবার ১১৭টিতে নামিয়ে এনেছে এবং ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল করেছে বলে দাবি এনসিপির।

এনসিপি বলেছে, মুক্তবাজারের দোহাই দিয়ে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ তুলে দিলে সাধারণ মানুষকে বাড়তি দামে ওষুধ কিনতে হবে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যানসার, অ্যাজমা ও কিডনি রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীরা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের বড় অংশ সাধারণ মানুষকে নিজস্ব অর্থে বহন করতে হয়। এর মধ্যে ওষুধের পেছনে ব্যয়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। ফলে ওষুধের দাম বেড়ে গেলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর চিকিৎসাব্যয় আরও বেড়ে যাবে, যা তাদের জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।