মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ওষুধের অত্যাবশ্যকীয় তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিলের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টির হুঁশিয়ারি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্প্রসারিত ‘এসেনশিয়াল ড্রাগ লিস্ট-২০২৬’ ও ড্রাগ প্রাইস ডিটারমিনেশন মেথড-২০২৬’ আমলাতান্ত্রিক ও আইনি মারপ্যাঁচের বাহানায় বাতিল করে সরকার বহুজাতিক ও দেশি ফার্মা করপোরেটদের হাতে সাধারণ মানুষের জীবন সঁপে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি অবিলম্বে এ গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল না করা হলে দেশের আপামর জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

সোমবার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন যৌথ বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত সরকারের সময় দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের নামমাত্র তালিকায় ১১৭টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার প্রায় ৪০ শতাংশই বাস্তবে চিকিৎসায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার যুগোপযোগী সংস্কারের মাধ্যমে সে তালিকা সম্প্রসারিত করে ২৯৫টি ওষুধে উন্নীত করে এবং সেগুলোর ওপর সরকারের কঠোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এই ২৯৫টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার চাহিদা মেটাতে সক্ষম ছিল। সে নীতিতে প্রতিটি ওষুধ কোম্পানির জন্য তাদের মোট বার্ষিক বিক্রয়ের অন্তত ২৫ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল এবং তা না মানলে নতুন ওষুধের অনুমোদন বন্ধের বিধান রাখা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই কতিপয় কোম্পানির অতি মুনাফার স্বার্থরক্ষা করতে সে জনমুখী নীতি বাতিল করেছে। ওই তালিকাকে আবারও সংকুচিত করে ১১৭টিতে নামিয়ে এনে ওষুধের মূল্য নির্ধারণের পূর্ণ ক্ষমতা ফার্মা মাফিয়াদের হাতে তুলে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই জনগণের চিকিৎসা নিরাপত্তা ধ্বংস করে প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার এক নগ্ন রাজনৈতিক চক্রান্ত।

সরকারের এই ধরনের সিদ্ধান্ত সরাসরি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের কোটি কোটি রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হবেন। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যানসার, অ্যাজমা ও কিডনি রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি (ক্রনিক) রোগে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। ওষুধের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়লে লাখ লাখ মানুষ অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন, যা দেশে অকাল মৃত্যু ও জটিল ব্যাধির মহামারি ডেকে আনবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪৫ বছর বয়সে কাঠমিস্ত্রি নাসিমুল হকের এসএসসি পাসের অনন্য দৃষ্টান্ত

ওষুধের অত্যাবশ্যকীয় তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিলের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টির হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৩:২৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্প্রসারিত ‘এসেনশিয়াল ড্রাগ লিস্ট-২০২৬’ ও ড্রাগ প্রাইস ডিটারমিনেশন মেথড-২০২৬’ আমলাতান্ত্রিক ও আইনি মারপ্যাঁচের বাহানায় বাতিল করে সরকার বহুজাতিক ও দেশি ফার্মা করপোরেটদের হাতে সাধারণ মানুষের জীবন সঁপে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি অবিলম্বে এ গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল না করা হলে দেশের আপামর জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

সোমবার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন যৌথ বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত সরকারের সময় দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের নামমাত্র তালিকায় ১১৭টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার প্রায় ৪০ শতাংশই বাস্তবে চিকিৎসায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার যুগোপযোগী সংস্কারের মাধ্যমে সে তালিকা সম্প্রসারিত করে ২৯৫টি ওষুধে উন্নীত করে এবং সেগুলোর ওপর সরকারের কঠোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এই ২৯৫টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার চাহিদা মেটাতে সক্ষম ছিল। সে নীতিতে প্রতিটি ওষুধ কোম্পানির জন্য তাদের মোট বার্ষিক বিক্রয়ের অন্তত ২৫ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল এবং তা না মানলে নতুন ওষুধের অনুমোদন বন্ধের বিধান রাখা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই কতিপয় কোম্পানির অতি মুনাফার স্বার্থরক্ষা করতে সে জনমুখী নীতি বাতিল করেছে। ওই তালিকাকে আবারও সংকুচিত করে ১১৭টিতে নামিয়ে এনে ওষুধের মূল্য নির্ধারণের পূর্ণ ক্ষমতা ফার্মা মাফিয়াদের হাতে তুলে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই জনগণের চিকিৎসা নিরাপত্তা ধ্বংস করে প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার এক নগ্ন রাজনৈতিক চক্রান্ত।

সরকারের এই ধরনের সিদ্ধান্ত সরাসরি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের কোটি কোটি রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হবেন। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যানসার, অ্যাজমা ও কিডনি রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি (ক্রনিক) রোগে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। ওষুধের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়লে লাখ লাখ মানুষ অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন, যা দেশে অকাল মৃত্যু ও জটিল ব্যাধির মহামারি ডেকে আনবে।