মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ছাড়া ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়: এনসিপি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা: ভারত সরকার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, ভারতের এই কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বিচারব্যবস্থা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক রায়ের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রশ্নটির সমাধান না করে ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের আপত্তি উপেক্ষা করে দিল্লীতে শেখ হাসিনার কথিত সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আধিপত্যবাদী ও আগ্রাসী নীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি।

এনসিপির মুখপাত্র দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এমন গুরুতর আঘাতের পরও ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো পর্যন্ত কার্যকর জবাবদিহিতা আদায় করতে পারেনি। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও ৫ আগস্টের ঘটনার বিষয়ে কোনো বক্তব্য, ব্যাখ্যা বা ভারতের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি। বাংলাদেশের জনগণের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি এমন একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়া গভীরভাবে হতাশাজনক।

ভারতীয় হাইকমিশনার দুই দেশের “shared dream”-এর কথা উল্লেখ করলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কোনো কথিত সম্প্রসারণবাদী ‘shared dream’ এর অংশীদার নয়। বাংলাদেশের জনগণ এমন কোনো সম্পর্ক মেনে নেবে না যেখানে দিল্লি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বা প্রভাব বিস্তারের অধিকার দাবি করে। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দক্ষিণ এশিয়া দেখতে চায়।

তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদকে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনার বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও দুঃখ প্রকাশ, শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদীর খুনিদের প্রত্যর্পণ এবং ভারতের ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের নিশ্চয়তা আদায় করা জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সেরা ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘোষণা: আধিপত্য কুমিল্লার, উজ্জ্বল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ছাড়া ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়: এনসিপি

আপডেট সময় : ০৩:২৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা: ভারত সরকার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, ভারতের এই কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বিচারব্যবস্থা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক রায়ের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রশ্নটির সমাধান না করে ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের আপত্তি উপেক্ষা করে দিল্লীতে শেখ হাসিনার কথিত সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আধিপত্যবাদী ও আগ্রাসী নীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি।

এনসিপির মুখপাত্র দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এমন গুরুতর আঘাতের পরও ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো পর্যন্ত কার্যকর জবাবদিহিতা আদায় করতে পারেনি। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও ৫ আগস্টের ঘটনার বিষয়ে কোনো বক্তব্য, ব্যাখ্যা বা ভারতের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি। বাংলাদেশের জনগণের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি এমন একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়া গভীরভাবে হতাশাজনক।

ভারতীয় হাইকমিশনার দুই দেশের “shared dream”-এর কথা উল্লেখ করলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কোনো কথিত সম্প্রসারণবাদী ‘shared dream’ এর অংশীদার নয়। বাংলাদেশের জনগণ এমন কোনো সম্পর্ক মেনে নেবে না যেখানে দিল্লি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বা প্রভাব বিস্তারের অধিকার দাবি করে। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দক্ষিণ এশিয়া দেখতে চায়।

তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদকে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনার বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও দুঃখ প্রকাশ, শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদীর খুনিদের প্রত্যর্পণ এবং ভারতের ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের নিশ্চয়তা আদায় করা জরুরি।