মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ সংক্রান্ত ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে দাখিল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন, সদ্য সমাপ্ত জুলাই আন্দোলনের সময়কার কিছু ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ নেতারা আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এই সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদের ফোনালাপের রেকর্ড সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে প্রসিকিউশন বিভাগ তাদের কথোপকথনের নতুন কল রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করে। এর আগে, সোমবার সকালে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে আন্দোলনকারীদের সংবাদ প্রচারকারী টেলিভিশন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। এই তথ্যও প্রসিকিউশনের দাখিল করা নতুন কল রেকর্ডে পাওয়া গেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে ইন্টারনেট ধীর গতির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এ সংক্রান্ত কল রেকর্ডগুলো রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এই তথ্য জানা যায়। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

প্রকাশিত কল রেকর্ড অনুযায়ী, জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে ফোনালাপে ওবায়দুল কাদেরকে ইন্টারনেট ধীর করার কথা বলতে শোনা যায়। পলক প্রথমে ‘নেত্রীর পারমিশন’ নেওয়ার কথা বললেও, পরবর্তীতে ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে তা কার্যকর করার আশ্বাস দেন। এর আগে গত ৪ আগস্ট থেকে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে এবং আজ ছিল তার তৃতীয় দিনের কার্যক্রম।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিগত ১৭ বছরের ত্যাগের মূল্যায়ন! বিএনপির পরবর্তী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রিজভীর সম্ভাবনা উজ্জ্বল

জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ সংক্রান্ত ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে দাখিল

আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন, সদ্য সমাপ্ত জুলাই আন্দোলনের সময়কার কিছু ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ নেতারা আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এই সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদের ফোনালাপের রেকর্ড সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে প্রসিকিউশন বিভাগ তাদের কথোপকথনের নতুন কল রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করে। এর আগে, সোমবার সকালে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে আন্দোলনকারীদের সংবাদ প্রচারকারী টেলিভিশন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। এই তথ্যও প্রসিকিউশনের দাখিল করা নতুন কল রেকর্ডে পাওয়া গেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে ইন্টারনেট ধীর গতির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এ সংক্রান্ত কল রেকর্ডগুলো রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এই তথ্য জানা যায়। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

প্রকাশিত কল রেকর্ড অনুযায়ী, জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে ফোনালাপে ওবায়দুল কাদেরকে ইন্টারনেট ধীর করার কথা বলতে শোনা যায়। পলক প্রথমে ‘নেত্রীর পারমিশন’ নেওয়ার কথা বললেও, পরবর্তীতে ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে তা কার্যকর করার আশ্বাস দেন। এর আগে গত ৪ আগস্ট থেকে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে এবং আজ ছিল তার তৃতীয় দিনের কার্যক্রম।