রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট কার্যালয়ে সোমবার এক বিশেষ দালালবিরোধী অভিযান চালিয়েছে র্যাব-২। এই অভিযানে পাঁচজন দালালকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পাসপোর্ট কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়, যা সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সরকারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে ১৫ দিন, দুজনকে ১০ দিন এবং একজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই দালাল চক্রটি পাসপোর্ট অফিসের আশপাশ এবং পাশের ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়ে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের নানাভাবে প্রলোভন দেখাতো। ফরম পূরণ, সত্যায়ন, কাগজপত্র দ্রুত তৈরি করে দেওয়া এমনকি ভুল বা ভুয়া কাগজপত্র দিয়েও দ্রুত পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তারা মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত।
জানা যায়, পাসপোর্ট প্রার্থীরা তাদের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে চক্রটি তাদের নানাভাবে হয়রানি করত। পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ নোটিশ বোর্ডে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার এবং মাইকিং করেও এই দালালদের কার্যক্রম বন্ধ করতে পারছিল না। সাধারণ মানুষকে এই হয়রানি থেকে মুক্তি দিতে র্যাব-২ বেশ কিছুদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এবং এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে মোট আটজনকে আটক করা হলেও, র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদের পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আসামিরা নিজেদের দোষ স্বীকার করার পর তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, দালাল চক্রটি সেবাপ্রার্থীদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করছে, যেখানে ৫ দিনের কাজ ৩ দিনে করে দেওয়ার মতো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পাসপোর্ট অফিসের কোনো কর্মকর্তা এই দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত আছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান বিএনপি সরকার দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, যার প্রতিফলন এই অভিযানে দেখা যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























