সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৩ জন বাংলাদেশির সবাই নওগাঁ জেলার বাসিন্দা। নিহতদের মধ্যে অনেকেই আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালি গ্রামের মহন প্রামাণিক (২২) ও তার ভাই সুমন প্রামাণিক (১৬), রুবেল প্রামাণিক (৩০), কলিমুল্লাহ প্রামাণিক (৩৫); সাদনগর গ্রামের সাগর (৩৮); খরসতি গ্রামের মজিদুল (৩৪) ও আব্দুল জলিল (৪৮); উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২); ডুবাই গ্রামের সুমন (৩১) ও হাসিবুল হাসান শুভ (৩৭); গোয়ালা গ্রামের হৃদয় (৩২); মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩০) এবং ক্ষুদ্র বোয়ালিয় গ্রামের শাহিন (৩৮)। এছাড়া, নিহত অপর তিনজনের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা ও নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায়।
নিহত রুবেল প্রামাণিকের বাবা মোহাম্মদ সাইদুর তার একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে শোকে কাতর। তিনি জানান, তার নাতনির বয়স মাত্র ১৪ দিন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তার পরিবারসহ অনেক পরিবার এখন দিশেহারা। উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখের পরিবারও একই অবস্থায় রয়েছে। দেড় বছর আগে সৌদি আরবে যাওয়া ফরিদ শেখ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। তার পাঠানো টাকায়ই চলত তাদের সংসার। এখন ঋণের বোঝা এবং সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা তাদের গ্রাস করেছে।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং কাজ করছে। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুততম সময়ে লাশ দেশে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 


















