মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬: সাবেক ডিসির বিরুদ্ধে ৬২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্ত সম্পন্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের নির্দেশে গঠিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মখলেছুর রহমান ও উপসচিব শারমিন ইয়াসমিন সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি বরিশালে তাদের কার্যক্রম শেষ করে সম্প্রতি ঢাকায় ফিরেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির সদস্যরা বরিশাল জেলা প্রশাসনের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন। তারা লিখিত, ভিডিও ও মৌখিক বক্তব্য গ্রহণ করার পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে বরিশালের হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত অস্থায়ী ভোটকক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র দেখিয়ে সাবেক জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই অর্থ বিভিন্ন বিলের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিল-ভাউচার নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

এছাড়াও, রিটার্নিং কর্মকর্তার কন্ট্রোল রুম, ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও তাঁর দপ্তর এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত পর্যবেক্ষক দলসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ করা ১৪ লাখের বেশি টাকা খরচ না করেও বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয়ের অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ উঠেছে, বরিশাল সদরসহ ১০টি উপজেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আপ্যায়ন বাবদ বরাদ্দ ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি বড় অংশ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছিল। কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আপত্তির কারণে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা সম্ভব হয়নি বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, সাবেক জেলা প্রশাসক খায়রুল আলমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। গত বছর ৯ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মখলেছুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং একই বিভাগের উপসচিব শারমিন ইয়াসমিনকে সদস্য করে দুই সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, একাধিক অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি ও আহত

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬: সাবেক ডিসির বিরুদ্ধে ৬২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্ত সম্পন্ন

আপডেট সময় : ০৭:৫২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের নির্দেশে গঠিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মখলেছুর রহমান ও উপসচিব শারমিন ইয়াসমিন সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি বরিশালে তাদের কার্যক্রম শেষ করে সম্প্রতি ঢাকায় ফিরেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির সদস্যরা বরিশাল জেলা প্রশাসনের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন। তারা লিখিত, ভিডিও ও মৌখিক বক্তব্য গ্রহণ করার পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে বরিশালের হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত অস্থায়ী ভোটকক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র দেখিয়ে সাবেক জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই অর্থ বিভিন্ন বিলের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিল-ভাউচার নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

এছাড়াও, রিটার্নিং কর্মকর্তার কন্ট্রোল রুম, ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও তাঁর দপ্তর এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত পর্যবেক্ষক দলসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ করা ১৪ লাখের বেশি টাকা খরচ না করেও বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয়ের অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ উঠেছে, বরিশাল সদরসহ ১০টি উপজেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আপ্যায়ন বাবদ বরাদ্দ ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি বড় অংশ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছিল। কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আপত্তির কারণে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা সম্ভব হয়নি বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, সাবেক জেলা প্রশাসক খায়রুল আলমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। গত বছর ৯ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মখলেছুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং একই বিভাগের উপসচিব শারমিন ইয়াসমিনকে সদস্য করে দুই সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।