মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ডিজিটাল লেনদেন প্রসারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ: বাংলা কিউআরে ফি বাতিল, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা

দেশের ডিজিটাল লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় করতে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রমকে সহজ করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে সব ধরনের বাংলা কিউআর লেনদেনে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি শূন্য করা হয়েছে। ফলে গ্রাহক পর্যায়েও কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হবে না। একইসঙ্গে ক্ষুদ্র অঙ্কের লেনদেনে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্ষুদ্র বিক্রেতা ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনে দশমিক ৩ শতাংশ প্রণোদনা পাবে। এর মধ্যে গ্রাহক যে ব্যাংক বা এমএফএসের অ্যাপ ব্যবহার করে টাকা পরিশোধ করবেন, সেই প্রতিষ্ঠান পাবে লেনদেনের দশমিক ২ শতাংশ প্রণোদনা। আর যে ব্যাংক বা পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে দোকানদার টাকা গ্রহণ করবেন, সেই প্রতিষ্ঠান পাবে দশমিক ১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রণোদনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো লেনদেনকে একাধিক ছোট লেনদেনে বিভক্ত করা যাবে না। একইভাবে অন্য কোনো কৃত্রিম উপায়ে লেনদেন করা যাবে না। এছাড়া ব্যর্থ, বাতিল, অর্থ ফেরত দেওয়া, চার্জ ফেরত নেওয়া, বিরোধপূর্ণ বা পরবর্তী সময়ে বাতিল হওয়া কোনো লেনদেনের বিপরীতে প্রণোদনা দেওয়া হবে না।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনবোধে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেনের রেকর্ড, মার্চেন্ট সংক্রান্ত তথ্য, নিবন্ধন তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সহায়ক দলিলাদি যাচাই ও পরিদর্শন করতে পারবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় তথ্য, উপাত্ত ও দলিল সরবরাহ করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত, কৃত্রিম বা অন্য কোনো ত্রুটিপূর্ণ লেনদেনের বিপরীতে ভুলভাবে প্রণোদনা দেওয়া হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই প্রণোদনার অর্থ ফেরত নেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী প্রণোদনার সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবে।

পাশাপাশি, কোনো মার্চেন্টের অস্বাভাবিক সংখ্যক বা অস্বাভাবিক ধরনের লেনদেন পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে তা যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ, যাচাই ও পর্যালোচনা করতে হবে। কৃত্রিমভাবে লেনদেন বিভাজন, ক্যাশ আউট বা অন্য কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বিগত সরকার ২০২৩ সালে আন্তঃব্যাংক কোডভিত্তিক লেনদেন নিষ্পত্তির এই ব্যবস্থা চালু করলেও, গত ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে সব ব্যাংক ও এমএফএসের কোডভিত্তিক লেনদেন বাংলা কিউআরে প্রতিস্থাপন বাধ্যতামূলক করেছে বর্তমান সরকার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, একাধিক অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি ও আহত

ডিজিটাল লেনদেন প্রসারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ: বাংলা কিউআরে ফি বাতিল, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

দেশের ডিজিটাল লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় করতে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রমকে সহজ করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে সব ধরনের বাংলা কিউআর লেনদেনে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি শূন্য করা হয়েছে। ফলে গ্রাহক পর্যায়েও কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হবে না। একইসঙ্গে ক্ষুদ্র অঙ্কের লেনদেনে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্ষুদ্র বিক্রেতা ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনে দশমিক ৩ শতাংশ প্রণোদনা পাবে। এর মধ্যে গ্রাহক যে ব্যাংক বা এমএফএসের অ্যাপ ব্যবহার করে টাকা পরিশোধ করবেন, সেই প্রতিষ্ঠান পাবে লেনদেনের দশমিক ২ শতাংশ প্রণোদনা। আর যে ব্যাংক বা পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে দোকানদার টাকা গ্রহণ করবেন, সেই প্রতিষ্ঠান পাবে দশমিক ১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রণোদনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো লেনদেনকে একাধিক ছোট লেনদেনে বিভক্ত করা যাবে না। একইভাবে অন্য কোনো কৃত্রিম উপায়ে লেনদেন করা যাবে না। এছাড়া ব্যর্থ, বাতিল, অর্থ ফেরত দেওয়া, চার্জ ফেরত নেওয়া, বিরোধপূর্ণ বা পরবর্তী সময়ে বাতিল হওয়া কোনো লেনদেনের বিপরীতে প্রণোদনা দেওয়া হবে না।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনবোধে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেনের রেকর্ড, মার্চেন্ট সংক্রান্ত তথ্য, নিবন্ধন তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সহায়ক দলিলাদি যাচাই ও পরিদর্শন করতে পারবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় তথ্য, উপাত্ত ও দলিল সরবরাহ করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত, কৃত্রিম বা অন্য কোনো ত্রুটিপূর্ণ লেনদেনের বিপরীতে ভুলভাবে প্রণোদনা দেওয়া হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই প্রণোদনার অর্থ ফেরত নেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী প্রণোদনার সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবে।

পাশাপাশি, কোনো মার্চেন্টের অস্বাভাবিক সংখ্যক বা অস্বাভাবিক ধরনের লেনদেন পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে তা যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ, যাচাই ও পর্যালোচনা করতে হবে। কৃত্রিমভাবে লেনদেন বিভাজন, ক্যাশ আউট বা অন্য কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বিগত সরকার ২০২৩ সালে আন্তঃব্যাংক কোডভিত্তিক লেনদেন নিষ্পত্তির এই ব্যবস্থা চালু করলেও, গত ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে সব ব্যাংক ও এমএফএসের কোডভিত্তিক লেনদেন বাংলা কিউআরে প্রতিস্থাপন বাধ্যতামূলক করেছে বর্তমান সরকার।