মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

খাদ্যে ভেজাল ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের দাপট: জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

দেশের জনস্বাস্থ্য বর্তমানে এক নীরব সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যার প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর সুদূরপ্রসারী হতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দেশব্যাপী অভিযানে খাদ্যপণ্যে মারাত্মক সব অনিয়ম ধরা পড়েছে। নামি রেস্তোরাঁগুলোতে বাসি খাবার সংরক্ষণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না এবং একই তেল বারবার ব্যবহারের মতো ঘটনা এখন নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সুপারশপগুলোতে বিদেশি পণ্যের মেয়াদের তারিখ জালিয়াতির অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।

ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায়, যেখানে দেখা গেছে দেশের বাজারে পাওয়া ৯৫ শতাংশ চিনিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি রয়েছে। প্রতি কেজি চিনিতে ২১০ থেকে ৫০৮টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। শুধু চিনি নয়, মাছ, মুরগি, দুধ এবং এমনকি ঢাকা ওয়াসার পানিতেও ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘পিফাস’ শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ভেজালের এই সংস্পর্শ অসংক্রামক রোগ যেমন হৃদরোগ, লিভারের জটিলতা এবং হরমোনজনিত সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল মোবাইল কোর্ট বা জরিমানা যথেষ্ট নয়, বরং নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এক দশকে পুসাব: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম

খাদ্যে ভেজাল ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের দাপট: জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

আপডেট সময় : ১১:১৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

দেশের জনস্বাস্থ্য বর্তমানে এক নীরব সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যার প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর সুদূরপ্রসারী হতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দেশব্যাপী অভিযানে খাদ্যপণ্যে মারাত্মক সব অনিয়ম ধরা পড়েছে। নামি রেস্তোরাঁগুলোতে বাসি খাবার সংরক্ষণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না এবং একই তেল বারবার ব্যবহারের মতো ঘটনা এখন নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সুপারশপগুলোতে বিদেশি পণ্যের মেয়াদের তারিখ জালিয়াতির অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।

ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায়, যেখানে দেখা গেছে দেশের বাজারে পাওয়া ৯৫ শতাংশ চিনিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি রয়েছে। প্রতি কেজি চিনিতে ২১০ থেকে ৫০৮টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। শুধু চিনি নয়, মাছ, মুরগি, দুধ এবং এমনকি ঢাকা ওয়াসার পানিতেও ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘পিফাস’ শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ভেজালের এই সংস্পর্শ অসংক্রামক রোগ যেমন হৃদরোগ, লিভারের জটিলতা এবং হরমোনজনিত সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল মোবাইল কোর্ট বা জরিমানা যথেষ্ট নয়, বরং নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।