মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নতুন ভাইরাস তৈরি: সম্ভাবনা ও শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের ভাইরাস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এই উদ্ভাবন চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলেও, এর অপব্যবহার নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বিপজ্জনক জীবাণু তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।

ভাইরাসের জিনোম সংশ্লেষণ নতুন কোনো বিষয় নয়; এটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ও ভ্যাকসিন গবেষণায় এবং ভাইরাস কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে সহায়ক। তবে, সম্প্রতি ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং আর্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এআই-কে ডিএনএ কাঠামোর বিন্যাস চিনতে শিখিয়েছেন। এরপর সেই জ্ঞান ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ভাইরাসের জন্য নকশা তৈরি করা হয়েছে।

গবেষকরা এই নকশা অনুযায়ী ডিএনএ অণু তৈরি করে ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে প্রবেশ করান। পরিবর্তিত ব্যাকটেরিয়াগুলো এরপর এমন ভাইরাস তৈরি করে যা প্রকৃতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এই কৃত্রিম ভাইরাসগুলো অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম, যা এদের কার্যকারিতা প্রমাণ করে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কৃত্রিম ভাইরাসের মিশ্রণ ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে প্রাকৃতিক ভাইরাসের চেয়ে বেশি কার্যকর ছিল। গবেষকরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন ফাজ থেরাপি তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, একই প্রযুক্তি ক্ষতিকর ভাইরাস তৈরিতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। কানাডার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ আইজ্যাক বোগোচ জোর দিয়ে বলেছেন, এআই-নির্মিত ভাইরাসের সম্ভাবনা থাকলেও এর সঙ্গে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। অস্ট্রেলিয়ার গবেষক ফাতেমেহ ভাফাই উল্লেখ করেছেন, যদিও বর্তমান গবেষণায় মানুষের জন্য সরাসরি কোনো ঝুঁকি নেই কারণ তৈরি ভাইরাসগুলো শুধু ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে, তবুও এআই দিয়ে সম্পূর্ণ কার্যকর ভাইরাস তৈরির সক্ষমতাই ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষক টম এলিস মনে করেন, এআই এখনো জটিল ও বড় ভাইরাস তৈরির পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে ফাজ ভাইরাসের জিনোম তুলনামূলকভাবে ছোট ও সহজ হওয়ায় এই অগ্রগতি তাৎপর্যপূর্ণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সড়ক দুর্ঘটনায় রক্তাক্ত শুক্রবার: সিলেট ও বগুড়ায় প্রাণ গেল ১৮ জনের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নতুন ভাইরাস তৈরি: সম্ভাবনা ও শঙ্কা

আপডেট সময় : ০১:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের ভাইরাস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এই উদ্ভাবন চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলেও, এর অপব্যবহার নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বিপজ্জনক জীবাণু তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।

ভাইরাসের জিনোম সংশ্লেষণ নতুন কোনো বিষয় নয়; এটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ও ভ্যাকসিন গবেষণায় এবং ভাইরাস কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে সহায়ক। তবে, সম্প্রতি ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং আর্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এআই-কে ডিএনএ কাঠামোর বিন্যাস চিনতে শিখিয়েছেন। এরপর সেই জ্ঞান ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ভাইরাসের জন্য নকশা তৈরি করা হয়েছে।

গবেষকরা এই নকশা অনুযায়ী ডিএনএ অণু তৈরি করে ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে প্রবেশ করান। পরিবর্তিত ব্যাকটেরিয়াগুলো এরপর এমন ভাইরাস তৈরি করে যা প্রকৃতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এই কৃত্রিম ভাইরাসগুলো অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম, যা এদের কার্যকারিতা প্রমাণ করে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কৃত্রিম ভাইরাসের মিশ্রণ ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে প্রাকৃতিক ভাইরাসের চেয়ে বেশি কার্যকর ছিল। গবেষকরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন ফাজ থেরাপি তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, একই প্রযুক্তি ক্ষতিকর ভাইরাস তৈরিতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। কানাডার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ আইজ্যাক বোগোচ জোর দিয়ে বলেছেন, এআই-নির্মিত ভাইরাসের সম্ভাবনা থাকলেও এর সঙ্গে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। অস্ট্রেলিয়ার গবেষক ফাতেমেহ ভাফাই উল্লেখ করেছেন, যদিও বর্তমান গবেষণায় মানুষের জন্য সরাসরি কোনো ঝুঁকি নেই কারণ তৈরি ভাইরাসগুলো শুধু ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে, তবুও এআই দিয়ে সম্পূর্ণ কার্যকর ভাইরাস তৈরির সক্ষমতাই ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষক টম এলিস মনে করেন, এআই এখনো জটিল ও বড় ভাইরাস তৈরির পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে ফাজ ভাইরাসের জিনোম তুলনামূলকভাবে ছোট ও সহজ হওয়ায় এই অগ্রগতি তাৎপর্যপূর্ণ।