২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগ সরকারের চালানো নৃশংস দমন-পীড়নে সরাসরি মদতদাতা ও উসকানিদাতা হিসেবে অভিযুক্ত বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। বিগত সরকারের সুবিধাভোগী এসব শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নামমাত্র বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই বিপ্লববিরোধীদের অপরাধ আড়াল করে তাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে। এমনকি তারা নতুন ব্যারে সংগঠিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ও বিপ্লববিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, রংপুরের আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে ইতোমধ্যে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অনেক প্রধান বিদ্যাপীঠে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত অনেক প্রভাবশালী শিক্ষক এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় এসব বিতর্কিত শিক্ষকদের দ্রুত অপসারণ ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়েও কেন তারা স্বপদে বহাল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
রিপোর্টারের নাম 

























