বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের আলোচিত ঘটনা ঝিনাইদহের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনার হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হলেও মামলাটি এখনো হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়নি। ২০২৪ সালের মে মাসে কলকাতার নিউটাউনে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার ঘটনায় সেই সময় ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছিলেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। তবে দীর্ঘ সময়েও সেই মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়ায় ন্যায়বিচার নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জন আসামি ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চরমপন্থি নেতা শিমুল ভূঁইয়া, তানভীর ভূঁইয়া এবং শিলাস্তি রহমান। এছাড়া ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু ও গ্যাস বাবুকেও এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ভারতের কারাগারেও এই মামলার কয়েকজন আসামি বর্তমানে আটক রয়েছেন।
২০২৪ সালের ১৩ মে কলকাতায় আনার নিখোঁজ হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে তদন্ত দল ঝিনাইদহে গিয়ে আলামত উদ্ধারের চেষ্টা করলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে ২০২৬ সালে এসেও মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া মন্থর গতিতে চলায় নিহতের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে ডিএনএ রিপোর্ট সংগ্রহ ও মামলার ধারা পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলেও এই স্পর্শকাতর মামলাটির আইনি জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। মামলার বিষয়ে জানতে বর্তমানে থাইল্যান্ডে অবস্থানরত আনারের মেয়ে ডরিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 






















