রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক নারীকে পুলিশ কর্তৃক মারধরের ভিডিও ধারণ করায় গ্লোবাল টেলিভিশনের মোজো রিপোর্টার বুলবুল হোসেনের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ আগস্ট বিকেলে ২০-২৫ জন পুলিশ সদস্য তাকে ভ্যানে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় বলে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে রমনাস্থ ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে কমিশনারের কাছে তিনি এই অভিযোগটি জমা দেন। অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট বিকেল প্রায় ৫টা ৩০ মিনিটে বিজয় সরণি সিগন্যালে অবস্থানকালে বুলবুল হোসেন দেখতে পান যে, পুলিশ সদস্যরা এক নারীকে মারধর করছেন। পেশাগত দায়বদ্ধতা থেকে তিনি উক্ত ঘটনার ভিডিও ধারণ শুরু করলে পুলিশ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে তেড়ে আসেন এবং জোরপূর্বক পুলিশের ভ্যানে তুলে নেন।
বুলবুল হোসেন তার বর্ণনায় বলেন, পুলিশ ভ্যানে তোলার পর তারা তাকে বারবার জেরা করতে থাকেন কেন তিনি ভিডিও করেছেন এবং অবিলম্বে ভিডিও ডিলিট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তিনি তার পেশাগত পরিচয়ের কথা জানিয়ে ভিডিও ডিলিট করতে অস্বীকৃতি জানালে, পুলিশ সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন শুরু করেন। বুলবুল হোসেন অভিযোগ করেন, পুলিশ সদস্যরা নির্দয়ভাবে তার মাথায় আঘাত করেন, তাকে ভ্যানের নিচে ফ্লোরে ফেলে বেধড়ক মারধর করেন এবং একপর্যায়ে বুট পরা পা দিয়ে তার বুকে প্রচণ্ড চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ ও মারাত্মক জখম করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তার চিৎকারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এগিয়ে আসেন এবং তাদের সহায়তায় তিনি পুলিশের ভ্যান থেকে উদ্ধার পান।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার পর মুমূর্ষু অবস্থায় বুলবুল হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার মাথায়, চোখে ও বুকে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানান এবং জখমের মাত্রা বিবেচনায় তাকে তিন দিনের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দেন।
এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বুলবুল হোসেন ডিএমপি কমিশনারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, একজন স্বাধীন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এমন আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা এবং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। তিনি ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























