‘নিঃশ্বাস কত দামি!’ এই উপলব্ধি নিয়ে নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’। প্রযোজক মাহফুজ নাজিম মাপেল জানান, করোনায় বাবাকে হারানোর পর তিনি এই সত্য অনুধাবন করেছেন। একজন মানুষের সামান্য একটু বাতাসের জন্য সংগ্রাম করার দৃশ্য তার কাছে জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। গত ৫ আগস্ট রাত ১২টায় চরকিতে মুক্তি পেয়েছে এই চলচ্চিত্রটি।
ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে তন্বী চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী নওশাবা আহমেদ। তার কাছে সিনেমাটির চরিত্র ধারণ করা বা শুটিংয়ের সময়টা জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অভিনেত্রী নওশাবা বলেন, ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ আমার জীবনে এক দারুণ উপলব্ধি। আমার মনে হয়, এটি প্রকৃতির দেওয়া একটি উপহার, যা আমাকে জীবনকে নতুনভাবে বুঝতে শিখিয়েছে।’
সিনেমায় তূর্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। তার মতে, ‘একটুখানি শ্বাস নেওয়ার আশায় যে সংগ্রাম, সেই সংগ্রামের কাব্যিক দৃশ্যকাব্য হলো “পেইন্ট অন ড্রাই লিফ”।’ বর্ষণ আরও যোগ করেন, উন্নয়নের নামে মানুষ যেভাবে সবুজ ধ্বংস করছে, তাতে ভবিষ্যতে অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। এই চলচ্চিত্র অদূর ভবিষ্যতের সেই শঙ্কার গল্প তুলে ধরে।
চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্যে তূর্যকে অক্সিজেন মাস্ক পরে শুয়ে থাকতে দেখা যায়, যার নলটি একটি কাচের ভেতর বন্দি ছোট্ট গাছে মিশেছে। মাপেল জানান, এই দৃশ্যটি দেখে তিনি তার বাবাকেই দেখতে পান, যিনি একটু নিঃশ্বাসের জন্য এক নীরব সংগ্রাম করেছিলেন।
তবে গল্পটি কেবল পরিবেশের নয়, মানুষেরও। নির্মাতা বলেন, ‘যে পৃথিবীতে একটি গাছ মানুষের পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে গাছের মরে যাওয়া মানে মানুষটারও ধীরে ধীরে মুছে যাওয়া। এই চলচ্চিত্রে গাছ একটি সম্পর্কের আয়না হিসেবে এসেছে। তূর্য আর তন্বীর ভেতর দিয়ে আমি দেখতে চেয়েছি, ভালোবাসা ঠিক কোন মুহূর্তে যত্ন থেকে জেদ হয়ে ওঠে। ধরে রাখা আর ছেড়ে দেওয়ার মাঝখানে যে সরু জায়গাটুকু, ছবিটা সেখানেই দাঁড়িয়ে।’
রিপোর্টারের নাম 

























