মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

পিঁপড়াদের মিষ্টি সন্ধানের রহস্য: অ্যান্টেনা ও জিনগত ক্ষমতার বিস্ময়

চায়ের কাপ থেকে সামান্য চিনি মেঝেতে পড়লে কিংবা মিষ্টির গুঁড়ো টেবিলের কোণে জমতে না জমতেই কোথা থেকে যেন হাজির হয় পিঁপড়ার দল। জ্যামিতিক নিখুঁত মাপে তারা ঠিক পৌঁছে যায় নির্দিষ্ট সেই খাবারের উৎসে। কিন্তু মেঝের অদৃশ্য, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র খাবারের কণা পিঁপড়ারা কীভাবে এত দ্রুত ও নিখুঁতভাবে খুঁজে পায়—এ নিয়ে অনেকের মনেই দীর্ঘদিনের কৌতূহল রয়েছে।

গবেষকদের মতে, পিঁপড়ারা তাদের মাথায় থাকা বিশেষ অ্যান্টেনা বা শুঁড়ের সাহায্যে মেঝের স্পর্শ ও বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক পরিবর্তন অনুভব করতে পারে। মানুষের অগোচরে থাকা এসব ঘ্রাণ ও রাসায়নিক সংকেত তারা সহজেই ধরে ফেলে, যা তাদের খাদ্য অনুসন্ধানে মূল ভূমিকা রাখে।

রান্নাঘরে যে পিঁপড়ার আগমন ঘটে, তা কোনো একক প্রজাতির নয়। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় সব প্রজাতির পিঁপড়াই খাদ্য অনুসন্ধানে নির্দিষ্ট কিছু ধারাবাহিক ধাপ অনুসরণ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পিঁপড়ার জিনোমে বিপুল পরিমাণ গন্ধ-সংবেদনশীল জিন রয়েছে, যা তাদের অসাধারণ ঘ্রাণশক্তির উৎস।

একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, অন্যান্য পোকামাকড়ের তুলনায় পিঁপড়ার শরীরে ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি ঘ্রাণগ্রাহক বা স্মেল রিসেপ্টর থাকে। মানুষের কাছে যা সাধারণ একটি রান্নাঘর, পিঁপড়ার কাছে তা অগণিত রাসায়নিক তথ্যের এক সমৃদ্ধ ক্ষেত্র। এই বিশেষ ক্ষমতা তাদের খাদ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

অন্য একটি গবেষণায় জানা যায়, পিঁপড়ার খাবারের তালিকায় থাকা মিষ্টি উপাদানের সঙ্গে তাদের অ্যান্টেনায় থাকা স্বাদগ্রাহক (টেস্ট রিসেপ্টর) এবং সামনের পায়ের এক অনন্য সম্পর্ক রয়েছে। পিঁপড়াদের কলোনিতে টিকে থাকতে এবং শক্তি জোগাতে সুগার বা মিষ্টিজাতীয় উপাদানের ওপর নির্ভর করতে হয়। মিষ্টির গন্ধ বাতাসে খুব বেশি না ছড়ালেও, তাদের শুঁড়ে থাকা টেস্ট রিসেপ্টর খাবারে স্পর্শ করা মাত্রই চিনির ক্ষুদ্রতম কণাকেও সনাক্ত করতে পারে। বিজ্ঞানীরা পিঁপড়ার এই বিস্ময়কর ক্ষমতা নিয়ে এখনো গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোটরযানে হুটার ও হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার নিয়ে কড়া সতর্কতা

পিঁপড়াদের মিষ্টি সন্ধানের রহস্য: অ্যান্টেনা ও জিনগত ক্ষমতার বিস্ময়

আপডেট সময় : ০৩:০০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

চায়ের কাপ থেকে সামান্য চিনি মেঝেতে পড়লে কিংবা মিষ্টির গুঁড়ো টেবিলের কোণে জমতে না জমতেই কোথা থেকে যেন হাজির হয় পিঁপড়ার দল। জ্যামিতিক নিখুঁত মাপে তারা ঠিক পৌঁছে যায় নির্দিষ্ট সেই খাবারের উৎসে। কিন্তু মেঝের অদৃশ্য, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র খাবারের কণা পিঁপড়ারা কীভাবে এত দ্রুত ও নিখুঁতভাবে খুঁজে পায়—এ নিয়ে অনেকের মনেই দীর্ঘদিনের কৌতূহল রয়েছে।

গবেষকদের মতে, পিঁপড়ারা তাদের মাথায় থাকা বিশেষ অ্যান্টেনা বা শুঁড়ের সাহায্যে মেঝের স্পর্শ ও বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক পরিবর্তন অনুভব করতে পারে। মানুষের অগোচরে থাকা এসব ঘ্রাণ ও রাসায়নিক সংকেত তারা সহজেই ধরে ফেলে, যা তাদের খাদ্য অনুসন্ধানে মূল ভূমিকা রাখে।

রান্নাঘরে যে পিঁপড়ার আগমন ঘটে, তা কোনো একক প্রজাতির নয়। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় সব প্রজাতির পিঁপড়াই খাদ্য অনুসন্ধানে নির্দিষ্ট কিছু ধারাবাহিক ধাপ অনুসরণ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পিঁপড়ার জিনোমে বিপুল পরিমাণ গন্ধ-সংবেদনশীল জিন রয়েছে, যা তাদের অসাধারণ ঘ্রাণশক্তির উৎস।

একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, অন্যান্য পোকামাকড়ের তুলনায় পিঁপড়ার শরীরে ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি ঘ্রাণগ্রাহক বা স্মেল রিসেপ্টর থাকে। মানুষের কাছে যা সাধারণ একটি রান্নাঘর, পিঁপড়ার কাছে তা অগণিত রাসায়নিক তথ্যের এক সমৃদ্ধ ক্ষেত্র। এই বিশেষ ক্ষমতা তাদের খাদ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

অন্য একটি গবেষণায় জানা যায়, পিঁপড়ার খাবারের তালিকায় থাকা মিষ্টি উপাদানের সঙ্গে তাদের অ্যান্টেনায় থাকা স্বাদগ্রাহক (টেস্ট রিসেপ্টর) এবং সামনের পায়ের এক অনন্য সম্পর্ক রয়েছে। পিঁপড়াদের কলোনিতে টিকে থাকতে এবং শক্তি জোগাতে সুগার বা মিষ্টিজাতীয় উপাদানের ওপর নির্ভর করতে হয়। মিষ্টির গন্ধ বাতাসে খুব বেশি না ছড়ালেও, তাদের শুঁড়ে থাকা টেস্ট রিসেপ্টর খাবারে স্পর্শ করা মাত্রই চিনির ক্ষুদ্রতম কণাকেও সনাক্ত করতে পারে। বিজ্ঞানীরা পিঁপড়ার এই বিস্ময়কর ক্ষমতা নিয়ে এখনো গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।