মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

বাবার স্মৃতি ও দুই বোনের জীবন: এক নিভৃত প্রতিচ্ছবি

সম্প্রতি দুই সাংবাদিকের আগমনে রুনু নামের ছোট বোনটি ভীষণ উচ্ছ্বসিত। টিভিতে তাকে দেখা যাবে এই ভেবে সে উত্তেজনায় ড্রয়িং রুমে পায়চারি করছে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সী রুনু দুরন্ত, চঞ্চল আর মিশুক প্রকৃতির। তার ঠিক বিপরীতে আমি, নীলু, প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী। আমি শান্তশিষ্ট, নম্র-ভদ্র, যাকে বন্ধুরা ‘নার্ড’ বলে ডাকে। তবে বন্ধুবান্ধব আমার তেমন নেই। বর্তমানে আমি আরও চুপচাপ হয়ে যাচ্ছি।

গতকালই মা, রুনু এবং আমি ময়মনসিংহে বাবার শেষকৃত্যের জন্য গিয়েছিলাম। আমাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই। বাবার দাফন সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে। দুদিন আমরা দাদুবাড়িতে ছিলাম।

আমাদের বাড়িটি গোছানো, ছিমছাম এবং পুরোনো। দাদাজান তিয়াত্তর সালে এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এসেছিলেন। প্রথমে কোয়ার্টারে থাকলেও পরে জমি কিনে এই দোতলা বাংলোটি তৈরি করেন। বাবার জন্ম ও বেড়ে ওঠা এখানেই। নিচতলায় বসার ঘর, মেহমানখানা ও লাইব্রেরি এবং ওপরতলায় আমাদের শোবার ঘর। দোতলায় বাড়ির সামনের দিকে একটি বিশাল খোলা বারান্দা রয়েছে, যেখানে মানিপ্ল্যান্ট গাছগুলো রেলিং বেয়ে ঝুলে থাকে। এই মানিপ্ল্যান্টগুলো বাবার খুব প্রিয় ছিল, তিনিই এগুলো লাগিয়েছিলেন। আমাদের ঢাকার বাসাও বাবার লাগানো মানিপ্ল্যান্টে ভরে আছে।

বাবার দাফন-কাফনের সময় আমি ছাদে দাঁড়িয়ে ছিলাম। রুনুকে এসব দেখানো হয়নি, জলিল কাকা, আমাদের পারিবারিক দারোয়ান, যিনি বাবার জন্মের সময় থেকে এখানে আছেন, তিনি রুনুকে পার্কে নিয়ে গিয়েছিলেন। বাবার চলে যাওয়ায় আমি কোনো কিছু অনুভব করতে পারছিলাম না। কেবল বুঝতে পারছিলাম, বাবা আর কখনো ফিরবেন না, তাঁর হাসি আর কখনো দেখব না। রুনুও আর বাবার সাথে বক্সিং খেলতে পারবে না। আমি আর কখনো বাবার সেই পরিচিত ডাক শুনতে পাব না—‘নীলুমা, এক গ্লাস পানি খাওয়াবি?’ বাবা আমাকে কখনো নীলু বলে ডাকতেন না, সবসময় নামের শেষে ‘মা’ যোগ করতেন। আর রুনুকে ডাকতেন ‘বুড়ি’ বলে। ছোটবেলায় আমি আমার নামটা খুব অপছন্দ করতাম। মা বলতেন, নামটা নাকি ব…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচল ও নদী সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ

বাবার স্মৃতি ও দুই বোনের জীবন: এক নিভৃত প্রতিচ্ছবি

আপডেট সময় : ১২:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

সম্প্রতি দুই সাংবাদিকের আগমনে রুনু নামের ছোট বোনটি ভীষণ উচ্ছ্বসিত। টিভিতে তাকে দেখা যাবে এই ভেবে সে উত্তেজনায় ড্রয়িং রুমে পায়চারি করছে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সী রুনু দুরন্ত, চঞ্চল আর মিশুক প্রকৃতির। তার ঠিক বিপরীতে আমি, নীলু, প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী। আমি শান্তশিষ্ট, নম্র-ভদ্র, যাকে বন্ধুরা ‘নার্ড’ বলে ডাকে। তবে বন্ধুবান্ধব আমার তেমন নেই। বর্তমানে আমি আরও চুপচাপ হয়ে যাচ্ছি।

গতকালই মা, রুনু এবং আমি ময়মনসিংহে বাবার শেষকৃত্যের জন্য গিয়েছিলাম। আমাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই। বাবার দাফন সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে। দুদিন আমরা দাদুবাড়িতে ছিলাম।

আমাদের বাড়িটি গোছানো, ছিমছাম এবং পুরোনো। দাদাজান তিয়াত্তর সালে এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এসেছিলেন। প্রথমে কোয়ার্টারে থাকলেও পরে জমি কিনে এই দোতলা বাংলোটি তৈরি করেন। বাবার জন্ম ও বেড়ে ওঠা এখানেই। নিচতলায় বসার ঘর, মেহমানখানা ও লাইব্রেরি এবং ওপরতলায় আমাদের শোবার ঘর। দোতলায় বাড়ির সামনের দিকে একটি বিশাল খোলা বারান্দা রয়েছে, যেখানে মানিপ্ল্যান্ট গাছগুলো রেলিং বেয়ে ঝুলে থাকে। এই মানিপ্ল্যান্টগুলো বাবার খুব প্রিয় ছিল, তিনিই এগুলো লাগিয়েছিলেন। আমাদের ঢাকার বাসাও বাবার লাগানো মানিপ্ল্যান্টে ভরে আছে।

বাবার দাফন-কাফনের সময় আমি ছাদে দাঁড়িয়ে ছিলাম। রুনুকে এসব দেখানো হয়নি, জলিল কাকা, আমাদের পারিবারিক দারোয়ান, যিনি বাবার জন্মের সময় থেকে এখানে আছেন, তিনি রুনুকে পার্কে নিয়ে গিয়েছিলেন। বাবার চলে যাওয়ায় আমি কোনো কিছু অনুভব করতে পারছিলাম না। কেবল বুঝতে পারছিলাম, বাবা আর কখনো ফিরবেন না, তাঁর হাসি আর কখনো দেখব না। রুনুও আর বাবার সাথে বক্সিং খেলতে পারবে না। আমি আর কখনো বাবার সেই পরিচিত ডাক শুনতে পাব না—‘নীলুমা, এক গ্লাস পানি খাওয়াবি?’ বাবা আমাকে কখনো নীলু বলে ডাকতেন না, সবসময় নামের শেষে ‘মা’ যোগ করতেন। আর রুনুকে ডাকতেন ‘বুড়ি’ বলে। ছোটবেলায় আমি আমার নামটা খুব অপছন্দ করতাম। মা বলতেন, নামটা নাকি ব…